শ্রীমঙ্গল রেলওয়ের স্টেশনে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে আনারস
চায়ের রাজধানী মৌলভীবাজার। তবে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চায়ের পরেই সারা দেশে রয়েছে আনারসের খ্যাতি। জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সারাবছরই কমবেশি আনারস পৌঁছে যায়। আর এবার দেশজোড়া খ্যাতি সেই আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ।
আনারস একটি সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসলও। মূলত সিলেট, মৌলভীবাজার, টাঙ্গাইল, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাপক পরিসরে আনারস চাষ হয়। তবে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে উৎপাদিত আনারস দেশখ্যাত। রসে ভরপুর শ্রীমঙ্গলের আনারস। আনারস ফল হিসেবে খাবারের পাশাপাশি জ্যাম, জুস কিংবা জেলি হিসেবে খাওয়া যায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানায়, পাহাড়ি উঁচু-নিচু টিলায় ষাটের দশক থেকে আনারস চাষ শুরু হয়। এখানকার উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু আনারস চাষের জন্য খুব উপযোগী। উপজেলার মোহাজেরাবাদ, বিষামণি, হোসেনাবাদ, বালিশিরা, ডলুছড়া, সাতগাঁও, নন্দরানী ও মাইজদীর পাহাড়ি এলাকার প্রায় ৪৩০ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়। তাছাড়া সরকার এমডি-টু নামে কিছু নতুন আনারসের চারা সংগ্রহ করেছেন। সেই চারাগুলো কৃষকের মাঝে তিরণ করা হলে তারা আরও ১০ হেক্টর জমিতে চাষ করতে পারবে। তখন মোট ৪৪০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হবে।
বাজারে আনারস কিনতে আসা মামুন আহমেদ জানান, সকালে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশনের বাহিরে কৃষকদের আনা আনারস দেখে খুব ভালো লাগলো। একদম তাজা আনারস।বাসার জন্য ৮টা আনারস কিনলাম ৩২০টাকা দিয়ে।
শ্রীমঙ্গলেন আনারস চাষী কৃষক সামছুল হক জানান, আমি ৩০ একর জমিতে আনারস চাষ করেছি। খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখের মতো। এই পর্যন্ত বাজারে বিক্রি করেছি ৩ লাখ টাকার মতো। আগামী রমজান মাসের আগ মুহুর্ত্বে ৮-৯ টাকার আনারস বিক্রি করতে পারবো। মোটামোটি আমার ফলন ভালো হয়েছে। তিনি বলেন, আনারসের প্রতি পিচ ৩৫-৪০ টাকা।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন বলেন, শ্রীমঙ্গলে এবার ৪৩০ হেক্টর জমিতে হানি কিউ ও জায়ান্ট কিউ- এ দুই ধরনের আনারসের চাষ হয়েছে। এবছর আমরা রবি প্রনোদনার আওতায় বিএডিসি টাঙ্গাইল থেকে পাঠাবে এমডি-টু- নামে ১২০০০ আনারসের চারা। এগুলো সরকার বাহির থেকে নিয়ে আসছেন। সেই চারাগুলো কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হবে। তারা ১০ হেক্টর জমিতে চাষ করতে পারবে। তিনি বলেন, মূলত আনারসের কাটা বাহিরে থাকে কিন্তু নতুন এই আনারসের কাটাগুলো ভিতরে থাকবে। কৃষকরা আনারস কাটতে গেলে সমস্যা হবে না। তিনি আরও জানান, আনারসের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চাষিদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণ কৃষি অফিস থেকে দেওয়া হয়েছে।
জৈন্তাবার্তা/এমকে




