গত ৩ দিন ধরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। শীতের তীব্রতার সাথে বাড়ছে নিউমোনিয়া ও ঠান্ডা জনিত ডায়রিয়া। আক্রান্তদের মাছে শিশু ও বয়স্করাই বেশী। গতকাল বুধবার কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন প্রাইভেট ফিজিশিয়ানের চেম্বার সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৩ দিন ধরে ক্রমান্বয়ে কমলগঞ্জে শীতের তীব্রতা বেড়ে চলেছে। বিকাল থেকে ক্রমে শীত বেড়ে রাত ৯ টার পর থেকে পরদিন সকাল সাড়ে ৯ টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশার সাথে শীতের তীব্রতা থাকে বেশী। ফলে দরিদ্র মানুষজন বিশেষ করে খেটে খাওয়া মানুষজনের কষ্ট বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই স্থানীয় বিভিন্ন প্রাইভেট ফিজিশিয়ান ও কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবা গ্রহণকালে দেখা যায় এদের বেশিরভাগই নিউমোনিয়া, ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়াও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। আরও কিছু রোগী আছেন হাঁপানিতে ভুগছেন।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেল সাবেক শিশু বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক যোগিন্দ্র সিনহা বলেন, তিনি প্রতি সপ্তাহে কমলগঞ্জে এসে রোগীদের সেবা দেন। এখন শীতের শুরুতেই তার কাছে আগত শিশুদের বেশির ভাগই নিউমোনিয়া, ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানিতে আক্রান্ত পাচ্ছেন।
প্রাইভেট ফিজিশিয়ান শ্যামলেন্দু সেন শর্মা বলেন, এখন প্রতিদিন তিনি গড়ে শিশু বয়স্ক মিলিয়ে ৩০ থেকে ৪০ জন রোগী পাচ্ছেন নিউমোনিয়া, ঠান্ডা জনিত ডায়রিয়া ও শ্বাস কষ্টের রোগী। তাদের যাদের অবস্থা তুলনামূলক ভালো তাদের প্রাথমিক সেবা দিয়ে বাড়িতে পাঠাচ্ছেন। আরা শিশু ও বয়স্কদের হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সেবা গ্রহণে পরামর্শ দিচ্ছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.এম মাহবুবুল আলম ভূইয়া শীতের তীব্রতায় সম্প্রতি নিউমোনিয়া, ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া, হাঁপানি ও শ্বাস কষ্ট রোগের প্রভাবের সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, প্রতিদিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে শতাধিক রোগী নিউমোনিয়া, ঠান্ডাজনিত ডায়রিয়া, হাঁপানি ও শ্বাস কষ্ট নিয়ে আসেন। এদের মধ্যে যাদের অবস্থা কিছুটা ভালো তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকিদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার কমলগঞ্জে নিউমোনিয়া ও ঠান্ডা জনিত ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে ৩৫ জন্য গতকাল বুধবার শিশুসহ ভর্তি হয়েছে ৪৫ জন। এদের মাঝে ৪৫ জনই শিশু। তিনিও মনে করেন, কমলগঞ্জে এসব রোগে কমপক্ষে ২ শতাধিক আক্রান্ত আছে। এর মাঝে শিশু ও বয়স্করাই বেশি। তবে এখনও আতঙ্কিত হওয়ার মত হয়নি।চ
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, বুধবার ভোর ৬টায় কমলগঞ্জে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি। তাপমাত্রা আরও কমবে বলেও জানা যায়।
জৈন্তাবার্তা/এমকে




