বিপন্ন বনছাগল উদ্ধার, কমলগঞ্জের রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টে করা হবে অবমুক্ত
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:৫৩ PM

বিপন্ন বনছাগল উদ্ধার, কমলগঞ্জের রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টে করা হবে অবমুক্ত

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৭/১২/২০২৩ ০৬:০৭:২১ AM

বিপন্ন বনছাগল উদ্ধার, কমলগঞ্জের রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টে করা হবে অবমুক্ত

বিপন্ন বনছাগল উদ্ধার, কমলগঞ্জের রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টে করা হবে অবমুক্ত। ছবি: জৈন্তা বার্তা


সিলেট বন বিভাগের সুনামগঞ্জ রেঞ্জাধীন শক্তিয়ারখলা বিটের ঢুলারা বিজিবি ক্যাম্প এলাকা থেকে বিরল প্রজাতির একটি বনছাগল (রেড সেরো) লম্বায় ৪ ফুট, উচ্চতা ৩.৫ ফুট প্রানীটি স্থানীদের সহযোগীতায় উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। রেঞ্জকর্মকর্তা সুনামগঞ্জ ও বিট কর্মকর্তা শক্তিয়ারখোলা এটিকে উদ্ধার করে মিনি ট্রাকযোগে সিলেট বন বিভাগের বিভাগীয় কার্যালয়ে রাতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার গভীর রাতে কমলগঞ্জের রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানায় মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।

বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্ধারকৃত ছাগলটি ‘আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিকসম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)’-এ বিশ্বে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত। এ প্রজাতির বনছাগল দেশে বিরল। পুরুষ সেরো প্রায় ১২০ কেজি পর্যন্ত হতে পারে। ২০১৫ সালে আইইউসিএন বাংলাদেশের মূল্যায়ণ অনুযায়ী সেরো বাংলাদেশে বিপন্ন, বিশ্বব্যাপী সংকটাপন্ন। বাংলাদেশে দুই ধরনের সেরো থাকতে পারে, লাল সেরো আর ইন্দো–চায়নিজ সেরো। তবে এ নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।


মৌলভীবাজারের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সরোয়ার জানান, স্থানীয় বন বিভাগের সবাই আমাকে প্রথমে জানায়। আমি তাদের বলি ছবি তুলে দেন। তারা ছবি তুলে দেওয়ার পর আমি মোটামুটি কনফার্ম হই এটা বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী বনছাগল হবে। তারপরও আরও একটু কনফার্ম হওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুনতাসির আকাশ ভাইয়ের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি আমায় জানান এটা এ বিশ্বে বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত। এ প্রজাতির বনছাগল দেশে বিরল। তবে প্রথমে সবাই আমায় বলেছিল এটি হরিণের বাচ্চা।

মির্জা মেহেদী সরোয়ার আরও জানান, উদ্ধার হওয়া বনছাগল ছানাটি রেড সেরো। বাসস্থানের ক্ষতি এবং শিকারের জন্যে এ প্রজাতির বনছাগলের অস্তিত্ব পুরো পৃথিবীতে হুমকির মুখে। এ বনছাগলগুলো মুলত সন্ধ্যায় ও ভোরে খেতে বের হয়। দিনে লুকিয়ে থাকে, এদের দেখা বা কোনো ভাবে সম্ভব না। বাংলাদেশে অত্যন্ত বিপন্ন ও দুর্লভ প্রাণী।


এদিকে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, প্রাণীটা আমরা অনেক খাবার দিয়েছিলাম। কিন্তু সে পানিছাড়া অন্য কিছু খায়নি। তাই যত দ্রুত সময়ের ভিতরে এটা আমরা অবমুক্ত করবো। সেসময় আমাদের সাথে বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, এসিএফ ও স্ট্যান্ড ফর আওয়ার এন্ডেঞ্জার্ড ওয়াইল্ডলাইফ (সিউ) টিম সাথে থাকবে।

মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কমকতা ড. জাহাঙ্গীর আলম, জানান, উদ্ধার হওয়া বনছাগলটি গতকাল মঙ্গলবার রাতে কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া রেসকিউ সেন্টারে রাখা হয়। সেখানে রেখে আমাদের তত্ত্বাবধানে বনছাগলটি সুস্থ ও ভালো আছে কি না সেটা দেখলাম। প্রানীটা সুস্থ আছে। যতদূর দেখলাম আমাদের কাছে রাখলে তার সমস্যা হবে তাই গভীর রাতে কমলগঞ্জের রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টের ছেড়ে দেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুনতাসির আকাশ বলেন, আমাদের মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রাজকান্দি রিজার্ভ ফরেস্টে বনছাগলের চমৎকার বুনো পরিবেশ আছে। গত কয়েক বছর আগে আমরা গবেষণার জন্য ক্যামেরা লাগিয়ে ছিলাম, সেময় বাচ্চাসহ ছবি পেয়েছি। এটাকে বুধবার রাতে সেখানেই ছেড়ে দেওয়া হবে।

জৈন্তাবার্তা/জেএ



শীর্ষ সংবাদ: