নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর চা শ্রমিকদের ভোট।
হবিগঞ্জ-৪ আসনে সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে শ্রমিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকেই এবারের ভোটের রাজনীতিতে চা শ্রমিকদের ভোট একটি ফলাফল নির্ধারণী ফ্যাক্টর বলে মনে করছেন নাগরিক বিশ্লেষকরা।
চা বাগান বেষ্টিত এই আসনে চা শ্রমিক ভোটাররাই মূলত যে কোন প্রার্থীকে তার কাঙ্ক্ষিত আসনে পৌঁছে দেয়। সারা বছর খোজ খবর না নিলেও নির্বাচন আসলে চা শ্রমিকদের কদর বেড়ে যায় জানিয়ে শ্রমিকরা বলছেন, নির্বাচন আসলেই আমাদেরকে ঘিরে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি উড়ে। পরে আর তাদের কাউকে দেখা যায়না। তাই এবারের নির্বাচনে তারা বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় রেখে ভোট দিবেন বলে জানিয়েছেন।
মাধবপুর চুনারুঘাট উপজেলা নিয়ে হবিগঞ্জ ৪ আসন। এই আসনে ২০টি চা বাগান রয়েছেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। তবে মুল প্রতিদ্বন্ধিতা হবে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এড. মোঃ মাহবুব আলী নৌকা প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের ঈগল প্রতীকের মধ্যে।
এড. মোঃ মাহবুব আলী ও ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন দিনরাত পার করছেন চা শ্রমিকের সাথে। তাদের সামনে বিগত দিনের উন্নয়নের চিত্র বিভিন্ন কৌশলে তুলে ধরছেন দুজনেই। ব্যারিস্টার সুমন নিজের অর্থায়নে নির্মিত ৪৯টি ব্রিজ ও করোনাকালীন সময়ে সহযোগিতার কথা চা শ্রমিকদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। অপরদিকে এড. মাহবুব আলী সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরছেন। তবে চা শ্রমিকরা বলছেন, তাদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনের সময় যিনি পাশে ছিলেন তাকেই এবার তারা বেঁচে নিবেন। আর এসব বিষয় মাথায় নিয়েই দুই প্রার্থী চেষ্টা করে যাচ্ছেন চা শ্রমিকদের নিজ বলয়ে নিয়ে আসার জন্য।
সুরমা চা বাগানের ভোজন বাউরী বলেন, আমাদের শ্রমিক নেতৃবৃন্দ যে সিদ্ধান্ত নিবেন আমরা সেটি অনুসরণ করব। কারণ আমরা বিভিন্ন সময়ে নানাভাবে বঞ্চিত। আমরা এবার দেখে শুনে ভোট দিব। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে আমাদেরকে ভোটের অধিকার দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী আমাদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি করে দিয়েছেন।
নোয়াপাড়া চা বাগানের রুপালী সাওতাল বলেন, দুইজনই আওয়ামী লীগের প্রার্থী। আমরাতো সব সময় আওয়ামী লীগকে সমর্থন করি। এবারের নির্বাচনে ভোট কাকে দিব পঞ্চায়েত নেতারা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত জানাবেন।
১৯৮৬সাল থেকে ৯১সাল পর্যন্ত এই আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। ৯১ সালের নির্বাচনে আসনটি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দখলে যায়। ৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই আসনে বিএনপি’র সংসদ সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে জুন মাসের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে অদ্যাবধি আসনটি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দখলে রয়েছে।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




