হবিগঞ্জে থানায় আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এসআই প্রত্যাহার
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন

সুরতহাল প্রতিবেদন দিতে পুলিশের গড়িমসি

হবিগঞ্জে থানায় আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এসআই প্রত্যাহার

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১/১২/২০২৩ ০৩:৫৭:০০ পূর্বাহ্ন

হবিগঞ্জে থানায় আসামির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এসআই প্রত্যাহার

নিহত গোলাম রাব্বানি।


হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানার ভেতর থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

গত ২৬ ডিসেম্বর বিকেলে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গোলাম রাব্বানিকে (১৮) আটক করে পুলিশ। সেদিন সন্ধ্যায় থানা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, গোলাম রাব্বানিকে মিথ্যা অভিযোগে থানায় আটকে রেখে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

ঘটনার চারদিন পর গতকাল শনিবার এসআই মনিরুলকে প্রত্যাহার করা হয়।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল হক জানান, অভিযুক্ত এসআই মনিরুল ইসলামকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে যুক্ত করা হয়েছে।

নিহত গোলাম রাব্বানীর বড় ভাই মঈন উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাই ইজিবাইকচালক ছিলেন। তাঁকে একটি মিথ্যা চুরির মামলায় থানার এসআই মনিরুল ইসলাম গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। অতিরিক্ত নির্যাতনে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়।’ 

মঈন উদ্দিন আরও বলেন, তাঁর ভাইয়ের লাশের গায়ে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাওয়া যায়। তাঁর ভাইয়ের সুরতহাল প্রতিবেদন এখনো পুলিশ দেয়নি। এ প্রতিবেদন পাওয়ার জন্য থানায় আসা-যাওয়া করছেন। কিন্তু পুলিশ এ নিয়ে টালবাহানা করার কারণে তিনি তাঁর ভাই হত্যার মামলা করতে পারছেন না। তবে এ ঘটনায় আদালতে মামলা করবেন বলে জানান তিনি। 

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে একটি চুরির মামলায় গোলাম রাব্বানীকে তার গ্রাম থেকে উপ পরিদর্শক (এসআই) মনিরুল ইসলাম গ্রেফতার করে নিয়ে আসেন। রাতে সে হাজতের ফ্যানের সঙ্গে বেল্ট ও গেঞ্জি দিয়ে গলায় বাঁধা অবস্থায় তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নেওয়া হলে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাব্বানীকে মৃত ঘোষণা করেন।

জৈন্তাবার্তা/জেএ