পাখি ধরার সরঞ্জামসহ ৩ প্রজাতির ৫ টি শিকারী পাখি উদ্ধার
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে এক পাখি শিকারীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পাখি ধরার সরঞ্জামসহ ৩ প্রজাতির ৫ টি শিকারী পাখি উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। এই পাখিগুলোকে কাজে লাগিয়ে অন্য পাখিদের ধরে বাজারে বিক্রি করতো আজিজ মিয়া নামের এক শিকারী।
বৃহস্পতিবার (৪জানুয়াারি) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার বিরাইমপুর এলাকার আজিজ মিয়ার বাড়ি থেকে এই পাখিগুলো উদ্ধার করা হয়। পাখিগুলোর মধ্যে ছিলো ১টি ডাহুক, ৩টি তিলা ঘুঘু ও ১টি কোড়া পাখি।
বনবিভাগের অভিযানে নেতৃত্ব দেন মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম। এসময় তার সাথে ছিলেন ওয়াইল্ডলাইফ জুনিয়র স্কাউট সুব্রত সরকার, তাজুল ইসলাম প্রমুখ।
মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সকালে শহরের বিরাইমপুর এলাকায় আজিজ মিয়া নামে এক লোকের বাড়িতে অভিযান করে পাখিগুলো উদ্ধার করি। আমাদের সোর্সের মাধ্যমে খবর পাই ওই এলাকায় এক লোক শিকারী পাখি দিয়ে পাখি ধরে বিক্রি করে। এই পাখিগুলো শিকারী পাখি। এগুলো দিয়ে অন্য পাখিদের ধরে সে বিক্রি করতো। পাখি শিকারী আজিজ মিয়া আমাদের কাছে বন সই দিয়েছে আর কখনো সে পাখি ধরবে না। তার উপরে আমরা নজরদারি রাখবো। তাছাড়া আমরা পাখি ধরার সরঞ্জাম সহ পাখি গুলোকে উদ্ধার করে রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে এসেছি। পাখিগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে শীঘ্রই অবমুক্ত করা হবে।
বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও উদ্ধারের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘স্ট্যান্ড ফর আওয়ার এনডেঞ্জার্ড ওয়াইল্ডলাইফ (সিউ)’ এর সমন্বয়ক সোহেল শ্যাম বলেন, মানুষকে বুঝাতে হবে পাখি ও বন্যপ্রাণীরা আমাদের পরিবেশ রক্ষায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা মনে করি এই পাখি শিকার রোধ করতে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। সবাইকে বলবো কোথাও কোন বন্যপ্রাণী আটকা পড়লে বা কেউ ধরলে সাথে সাথে বন বিভাগ ও আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। নিজেও চেষ্টা করুন একটি বন্যপ্রাণী রক্ষার। তাছাড়া শীত মৌসুমে আমাদের হাওর ও অন্যান্য জায়গায় অতিথি পাখি আসে। এসময় প্রায়ই পাখি শিকারের কথা বেশি শুনা যায়।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




