উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ।
বাংলাদেশের মানচিত্রে বিশ্বপরিচিত মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলা। এই উপজেলার সাথে কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-৪ নির্বাচনী আসন।পুরো উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে শহর থেকে গ্রাম সব জায়গায় কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি বাড়াতে মাঠে ও অনলাইনে ব্যাপক সরব নৌকার প্রার্থী উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে তিনি ডিজিটাল প্রচারণা কাজে লাগাচ্ছে ভোটের মাঠেও। উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ ইতিমধ্যে এই নির্বাচনী আসনের প্রায় ৯৫ শতাংশ এলাকায় মিছিল, মিটিং, উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও জনসভা করেছেন। নৌকার প্রার্থী হিসেবে মাঠের পাশাপাশি অনলাইনেও সরব রয়েছেন তিনি।
পত্রপত্রিকা, টিভি চ্যানেল এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক জুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেয়ার আহবান জানানো ভিডিও বার্তা ও প্রচার-প্রচারণা। শুধু তাই নয় ভোটারদের মুঠোফোনেও খুদে বার্তা পাঠিয়ে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে বলা হচ্ছে।
স্বাধীনতার পর থেকে আওয়ামীলীগের দখলে মৌলভীবাজার- ৪ আসন। টানা ৬বার এ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত এমপি হয়ে দেশের নানান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছেন আব্দুস শহীদ। সপ্তমবারের মতো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া আব্দুস শহীদের বিপরীতে ভোটের মাঠে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকলেও সভা, সমাবেশ, উঠান বৈঠকের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে শেষ করেছেন নির্বাচনী প্রচারণা।
প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ প্রচার-প্রচারণায় তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সরকারের নানাবিদ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। আগামীতে সরকার গঠন করে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য আরো ব্যাপক উন্নয়নের সম্ভাবনাও তুলে ধরেছেন ভোটারদের কাছে। জনপ্রিয় এই রাজনীতিবিদ যে এলাকাতেই প্রচারণায় গেছে হুমরি খেয়ে জড়ো হয়েছে উৎসব মূখর জনতা।
চা বাগান অধ্যুষিত এ আসনে ৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৪ জন নারী-পুরুষ ভোটারের বিপরীতে সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হয়েছেন আরও দুজন। তারা হলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন (মিনার মার্কা) ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী আব্দুল মুহিত হাসানী (মোমবাতি মার্কা)।
তবে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রচারণা থাকলেও বাকি দুজনের প্রচারণা নেই বললেই চলে। শহর ও গ্রাম কোথাও তাদের পোস্টার চোখে পড়ছে না ভোটারদের। এ নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের ভাষ্যমতে জানা গেছে আওয়ামী লীগের বিপরীতে প্রার্থী দুজনকে তাদের কেউ চিনেন না এমনকি চোখেও দেখেনি ভোটের মাঠে।
অপরদিকে নৌকার প্রার্থী সমান তালে শ্রীমঙ্গল- কমলগঞ্জ দুই উপজেলায় প্রচারণা চালিয়েছেন কোমর বেঁধ। আওয়ামীলীগের দলীয় কর্মীরাও মাঠে তাদের সরব উপস্থিতির জানান দিয়েছে এবার। প্রচার প্রচারণায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীদের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে বেশি সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতির বিষয়টি।
সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শক্ত কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় আব্দুস শহীদের বিজয়ের পথে কোনো বাধা নেই।
সাবেক চিফ হুইপ' বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ বলেন, সারাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক উন্নয়ন কাজ করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় শ্রীমঙ্গল কমলগঞ্জেও অনেক উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। এখন দেশের মানুষ চায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ পরিচালনা হোক। কারণ আওয়ামী লীগ সরকারের নেতৃত্বে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ এখন মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে পরিচিত। তিনি বলেন এই নির্বাচনে সকল নাগরিকদের অংশগ্রহণ আমাদের মূল লক্ষ্য। কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রয়োগের জন্য আমরা সবাইকে উৎসাহ দিয়েছি। এবারের নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে সেন্টারে যাবেন, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তিনি আরো বলেন আমি এবারও বিজয়ী হলে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলায় আরও বেশি উন্নয়ন করব।
উল্লেখ্য, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, মৌলভীবাজার- ৪ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৯ হাজার ২৫৪ জন। এই আসনে দুই উপজেলায় দুইটি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন রয়েছে।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




