নৌকার ব্যাজ ঝুলানো থাকলেও সিল মেরেছে ঈগলে।
হবিগঞ্জ-৪ আসন চা শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা। এই আসনে ছোট বড় মিলে মোট ২৪টি চা বাগান রয়েছে। ভোটের মাঠে চা বাগানের শ্রমিকরাই মুল ফ্যাক্টর বলে মনে করা হয়। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারই প্রতিফলন হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। এই আসনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত মুখ স্বতন্ত্র প্রার্থী ঈগল মার্কার প্রতিনিধি ব্যারিষ্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এড. মাহবুব আলী।
ভোটের দিন সরেজমিন চানপুর, চন্ডিছড়া, নলুয়া চা বাগানসহ বিভিন্ন চা বাগানের ভোট কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, নারী পুরুষ সবার বুকে নৌকার ব্যাজ ঝুলানো। এসময় বেশ কয়েকজন চা শ্রমিকের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, চা বাগানে নৌকা ছাড়া কিছুই নাই। সে হিসেবে অনুমান করা হয়েছে, সকল চা বাগান সেন্টারে নৌকা জয়ী হয়ে আসবে।
কিন্তু বিকালে যখন একের পর এক কেন্দ্র ভিত্তিক ফলাফল আসতে শুরু করল তখন দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। চা বাগানের সবকটি সেন্টারে নৌকা জয়ী হতে পারলনা। বড় সংখ্যক সেন্টারে ঈগল প্রতীক লিড (জয়ী) হয়ে আসছে। একই সাথে ভোটের ব্যবধানও অনেক। তার মানে বুকে নৌকার ব্যাজ ঝুলানো থাকলেও সিল মেরেছে ঈগল প্রতিকে।
ফলাফলে দেখা যায়, চানপুর চা বাগানে ঈগল প্রতীক পেয়েছে ২হাজার ১৩৮ ভোট, অপরদিকে নৌকা পেয়েছে ১৮৪ ভোট। নালুয়া চা বাগান সেন্টারে ঈগল প্রতীক পেয়েছে ১হাজার ৫৭ ভোট, নৌকা পেয়েছে ৪৬৮ ভোট। ছন্ডিছড়া চা বাগান সেন্টারে ঈগল পেয়েছে ১হাজার ২৮০ ভোট, অপরদিকে নৌকা পেয়েছে ৭৪০ ভোট। এই আসনের বেশ কিছু চা বাগানের ভোট কেন্দ্রে ঈগল জয়ী হয়ে এসেছে।
আর তাতেই সুমনের নবদিগন্তের সূচনা শুরু হলো।
নির্বাচন পরবর্তী গতকাল বেশ কিছু চা শ্রমিকের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, আমরা বরাবরই নৌকার সমর্থক। মাহবুব আলী যেমন নৌকা কর্মী ব্যারিষ্টার সুমনও তেমন নৌকার কর্মী। কিন্তু মাহবুব আলীকে আমাদের কোন পূজা পার্বণে পাই নাই। তিনি এতটাই ব্যস্ত থাকের যে, বছরে একবার আমাদের কোন অনুষ্ঠানে আসার সময় নাই তার। উপরোক্ত সুমন ভাইকে আমরা বিভিন্ন সময় কাছে পেয়েছি।
আমাদেরকে ব্রিজ নির্মাণ করে দিয়েছেন, চাল দিয়েছেন, বিপদে আপদে তাকে কাছে পেয়েছি। আমরাতো খেটে খাওয়া মানুষ, আমারা বিপদের সময় যাকে কাছে পাই সেই আমাদের আপনজন। তাই আমরা এবার সুমন ভাইয়ের ঈগল প্রতিকে ভোট দিয়েছি। ভোটের দিন সবাই নৌকার ব্যাজ ধারণ প্রসঙ্গে তারা বলেন, এটা আমাদের কৌশলগত কারণ।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




