চুনারুঘাটে রক্ষিত স্বাধীনতার স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক বধ্যভূমিতে সিএনজি অটোরিকশা পার্কিং স্ট্যান্ডে পরিণত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার নির্মম সাক্ষী বধ্যভূমিগুলো স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রতিবেদনের ফলে আংশিক সংরক্ষণ করা হলেও সেগুলো পড়ে আছে অবহেলায়
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট পৌরসভার উত্তর বাজারে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সংলগ্ন বধ্যভূমি। যেখানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক মুক্তিকামী মানুষের হত্যার দলিল, অথচ মুক্তিযুদ্ধের এই দলিল আছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে। সেজন্য এটি রক্ষিত হলেও ফের পরিণত হয়েছে সিএনজি অটোরিকশার অবৈধ পার্কিং। পাশাপাশি কাঁটাতারের আশপাশে মানুষ ময়লা ফেলে তৈরি করে ফেলছে অঘোষিত ডাস্টবিন।
অথচ এই স্থানটি একটি ইতিহাস। দেশের জন্য মানুষের প্রাণ বিলিয়ে দেয়ার ইতিহাস। এটি সংরক্ষণ সবচেয়ে বেশি জরুরি, আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধ জানাতে এসব স্থান স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও এসব স্থান সংরক্ষণ হচ্ছে না।
সবশেষ দু'বছর আগে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার মোহাম্মদ ফারাবীর পৃষ্ঠপোষকতায় বধ্যভূমিটি সংস্কারের উদ্যোগে ভিত্তিস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে সংস্করণ কাঁটাতার ভেদ করে উক্ত স্থানে গড়ে ওঠে সিএনজি-অটোরিকশা স্টেশন। জানা যায়, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার এক শোকাবহ স্মৃতিচিহ্ন অঙ্কিত হয়ে আছে এই বধ্যভূমিগুলোতে এই স্থানে পাকিস্তানি বাহিনীরা পৌরসভায় ১১ জন ও চা-বাগানসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধাসহ ৫০ জনেরও বেশি নারী-পুরুষকে হত্যা করে গণকবর দেয়া হয়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়,চুনারুঘাট পৌরসভার উত্তর বাজার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন সংলগ্ন পুরাতন খোয়াই নদী ও ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়ক ও স্থানীয় হাটবাজারের নর্দমা ফেলা হচ্ছে বধ্যভূমিরসহ আশপাশে। এছাড়া গড়ে উঠেছে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড। আর এসব কারণেই এটি উন্মুক্ত গণশৌচাগার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ঐতিহাসিক এ স্থানের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।
জৈন্তাবার্তা/এমকে




