ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশ থেকে অপহরণ করে ভারতে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনের মুখে পড়া যুবক হাসিবুর রহমান হিমেলকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে র্যাব। বুধবার সন্ধ্যায় র্যাবের এক ক্ষুদে বার্তায় তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বার্তায় বলা হয়েছে, অপহরণের পর পাশবিক কায়দায় নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় অপহৃত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান হিমেল সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার।
অপহরণের অভিযোগে পাঁচজনকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও ওয়াকিটকিসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। র্যাব বলছে, অপহরণ চক্রের মূলহোতা মালেকসহ অন্যদের নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর ও রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিলেন হিমেল। পরিবার বলছে, সেদিন শেরপুর যাওয়ার উদ্দেশ্য উত্তরার বাসা থেকে বের হন তিনি। এরপর থেকেই তার খোঁজ মিলছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা জিডি করেন উত্তরা পশ্চিম থানায়।
এরপরই পরিবারের কাছে হিমেলের একটি ভিডিও পাঠায় অপহরণকারীরা। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে ভারতের মেঘালয়ে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন করা হচ্ছে হিমেলকে। নির্যাতনের সেই ভিডিও ধারণ করে পরিবারের কাছে পাঠিয়ে চাওয়া হয় দুই কোটি টাকার মুক্তিপণ।
ভিডিওতে দেখা যায়, মেঘালয়ে হিমেলকে গাছের সঙ্গে বেধে মারধর করছে অপহরণকারীরা।
পরিবারের অভিযোগের পর একটি মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে মাঠে নামে ডিবি পুলিশ। তারা বলছেন, যে মোবাইল নম্বর থেকে ভিডিও পাঠানো হয়েছিল সেটি ভারতীয়। গোয়েন্দা পুলিশ এ ব্যাপারে ভারতের পুলিশের কাছে তথ্য পাঠায়। পরে ওই নম্বরটির সিম সরবরাহকারী ভারতীয় এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করে সে দেশের পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিআইজি হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা দেখলাম যে ভারতের মেঘালয় থেকে একটি ভারতীয় নম্বর থেকে তার মাকে ফোন করে বলে যে, তোমার ছেলেকে আমরা অপহরণ করেছি, টাকা দাও। পরে তারা ৩০ লাখ টাকার কথা বলেছে। বলেছে যে টাকা না দিলে তোমার ছেলের হাত–পা আমরা কেটে ফেলব। এর প্রেক্ষিতেই তার মা প্রথমে জিডি করে পরে মামলা করে।’
গ্রেপ্তার সেই ভারতীয় নাগরিকের দেওয়া তথ্য ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ করে ডিবি লালবাগ সারাদেশের কয়েকটি জায়গায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




