হবিগঞ্জ জেলা শহরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যবর্ধনে পুরাতন খোয়াই নদী বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নদীটিকে অব্যাহতভাবে দখল করার কারণে এর শেষ চিহ্ন মুছে যেতে চলেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ভূমি দখলকারীদের অবৈধ দখল, ভরাট ও দূষণের কারণে পুরাতন খোয়াই নদীর অবস্থা চরমে পৌঁছেছে। বৃষ্টির পানির প্রধান আঁধার পুরাতন খোয়াই নদী। ক্রমাগত ভরাট ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠার কারণে বর্তমানে অল্প বৃষ্টিপাতের ফলে বর্ষা মৌসুমে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতাসহ কৃত্রিম বন্যায় রূপ নেয়। অনেক বছর ধরে চলে আসা এসব সমস্যা দূরীকরণে কার্যকর কোন পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
শুক্রবার (২ ফেব্রুয়ারী) বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মানববন্ধন ও পথসভায় বক্তারা একথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ওয়াদুদ বলেন, ২০০৬ সাল থেকে বাপা এবং নাগরিক সমাজ পুরাতন খোয়াই নদীটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করে আসছে। ২০১৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জেলা প্রশাসন নদী দখলমুক্ত কাজ শুরু করে। মাছুলিয়া থেকে উচ্ছেদ অভিযান সদর হাসপাতাল পর্যন্ত চলে। এই অংশে প্রায় এক কিলোমিটার নদীর উপর থেকে প্রায় ৪ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক বদলি হওয়ার কারণে উচ্ছেদ অভিযানে ভাটা পড়ে এবং একসময় তা বন্ধ হয়ে যায়। ইতিমধ্যেই উচ্ছেদকৃত অংশ পুনরায় দখলের আওতায় চলে গেছে।
তোফাজ্জল সোহেল বলেন, এই শহরের ওয়াটার রিটেনশন পন্ড বা বারিপাত অঞ্চল হচ্ছে পুরাতন খোয়াই নদী, পুকুর, জলাশয় ও বাইপাস সড়কের খাল। পুরাতন খোয়াই নদীর অধিকাংশ সরকারি -বেসরকারি স্থাপনা ও প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। যেটুকু অংশ অবশিষ্ট রয়েছে সেটুকুতেও ময়লা আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। কচু গাছ, কচুরিপানায় ভরে আছে। এছাড়া পুকুর ও অন্যান্য জলাশয়গুলো দখল, ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে কয়েক বছর ধরে শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হচ্ছে। ঘর বাড়িতে ঢুকছে বৃষ্টির পানি। জনগণকে ময়লা-আবর্জনা মিশ্রিত পানির সঙ্গে বসবাস করতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার শহর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে হবিগঞ্জ।
এছাড়া মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, হবিগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বিশিষ্ট সাহিত্যিক অধ্যাপক জাহান আরা খাতুন, দৈনিক হবিগঞ্জের মুখ পত্রিকার সম্পাদক হারুনুর রশিদ চৌধুরী, দৈনিক হবিগঞ্জ এক্সপ্রেস পত্রিকা সম্পাদক মো. ফজলুর রহমান, হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পাবেল খান চৌধুরী, শিশু সংগঠক বাদল রায়, রূপান্তর সিলেট বিভাগের ক্লাসটার সমন্বয়কারি হাসান তারেক প্রমুখ।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




