কৃত্রিম ভূ-কম্পনে শতাধিক বাড়িঘরে ফাটল।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে কৃত্রিম ভূ-কম্পনের কারণে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শতাধিক বাড়িঘর ও মাটিতে ফাটল দেখা দিয়েছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
গ্যাসক্ষেত্রে ড্রিলিং কাজ চলার কারণে গত বৃহস্পতিবার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অন্তত ৩ থেকে ৪ বার করে বিকট শব্দ ও কৃত্রিম ভূ-কম্পন হয়েছে।
কলাম লেখক আবু জাফর শিহাব বলেন, আমাদের এলাকার আতংকের আরেক নাম বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড। কিছুদিন পর পর বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের এলাকাজুড়ে ভূমিকম্প হয়ে থাকে। এইটা ভূমিকম্প না এটা বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড থেকে শব্দ হয়েছে, কারণ এই শব্দটা শুধু আমাদের এলাকাতেই হয়েছে বাইরের কোন এলাকাতে নয়। বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের ৩/৪ কিলোমিটার ভিতরে যারা বসবাস করেন তারাই জানে ভয়াবহ ঝাকুনি। এতে বুঝা যায় ভুমিকম্পের চেয়ে কয়েক গুণ শক্তিশালী মরণ ফাঁদে আমরা বসবাস করতেছি। এর সঠিক জবাবদিহি করতে হবে। সবার কাছে অনুরোধ সবাই এক হয়ে এর সঠিক সমাধান আমাদের পেতে হবে। আজকের ভয়াবহতা কোন ভাবে এড়িয়ে যাওয়ার নয়।
বিক্ষুব্ধ জনতা শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের সামনে অবস্থান নিয়ে ড্রিলিং কাজ বন্ধ রাখার দাবি জানান। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে মোবাইল ফোনে স্থানীয় সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে তারা শান্ত হয়।
এসময় ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নোমান হোসেন বলেন, ‘এমপি মহোদয় পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে আপাতত ড্রিলিং কাজ বন্ধ রেখেছেন। এছাড়া কার কি ক্ষতি হয়েছে সেটির তালিকা এমপি মহোদয়ের কাছে দেয়ার জন্য বলেছেন। তিনি গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান সেভরন এবং পেট্রোবাংলার কাছ থেকে ক্ষতিপুরণ তুলে ধরবেন। এছাড়া পেট্রোবাংলার একটি টেকনিক্যাল টিম এসে এর সঠিক তদন্ত করবে।’
নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুক আলী বলেন, ভূ-কম্পনের কারণে স্থানীয় জনগণ আতঙ্কিত হয়ে জড়ো হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
মোবাইল ফোনে স্থানীয় সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বিক্ষুব্ধ জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, তিনি পেট্রোবাংলা'র চেয়ারম্যান ও মন্ত্রীর সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন। আপাতত ড্রিলিং কাজ বন্ধ রেখেছেন। এছাড়া পেট্রোবাংলার একটি টেকনিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে এসে নিরপেক্ষভাবে এর সঠিক কারণ অনুসন্ধান করবে।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




