তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ভুয়া দাবি, সম্মিলিত প্রতিবাদের হুশিয়ারি
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫২ PM

বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ভুয়া দাবি, সম্মিলিত প্রতিবাদের হুশিয়ারি

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০২/২০২৪ ০৪:৪৪:৫৪ AM

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ভুয়া দাবি, সম্মিলিত প্রতিবাদের হুশিয়ারি

তদন্ত প্রতিবেদনের পর উত্তেজিত জনতার প্রতিবাদ।


বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে জন সাধারণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিরাজ করছে নানা রকম আলোচনা। এনিযে এলাকায় আন্দোলন ধানা বাঁধছে। শিগগিরই মানব বন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও বিক্ষোভ মিছিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নবীগঞ্জের বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড এলাকায় ভূমিকম্প, বাড়িঘরে ফাটল দেয়াড় ঘটনাটি তদন্ত কমিটি সদস্যরা তাদের রিপোর্টে বলেছে, প্রাকৃতিক কারণে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করেছে পেট্রোবাংলা। এদিকে প্রতিবেদনটি পক্ষপাতমূলক বলে দাবী করেছেন স্থানীয়রা। পুনরায় বৃহৎ আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। গতকাল রবিবার সকালে সমকালের সাথে আলাপকালে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের কাছে রবিবার সকালে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে জানিয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, ‘বিবিয়ানায় যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা প্রাকৃতিক ভূমিকম্প, ভূমিকম্পের বিষয়ে মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তিনি জানান, বিবিয়ানা তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৭ ও ২৮ নাম্বার কূপ খননের কার্যক্রম হাতে নেয়। এরমধ্যে ২৮ নাম্বার কূপ খনন কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, ২৭ নাম্বার কূপ খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রতিবেদন দেওয়ার খবরে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের দাবি, নতুন কূপ খননকালে ভুল প্রক্রিয়ায় খনন করায় ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটে। এতে বাড়িঘর ফেটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ক্ষতিপূরণ এড়াতে পপাতমূলক প্রতিবেদন দিয়েছে তদন্ত কমিটি।

কসবা গ্রামের রানা শেখ জানান- আমরা শুনেছি তদন্ত কমিটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে, এটা পক্ষপাতমূলক তদন্ত প্রতিবেদন। মূলত গ্যাসফিল্ডে ড্রিলিং কাজের জন্য কৃত্রিম ভূমিকম্প সৃষ্টি করা হয়েছে, আমাদের বাড়িঘরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, আমরা আমাদের ক্ষতিপূরণ চাই।

দীঘলবাক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ছালিক মিয়া জানান, পেট্রোবাংলার তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয় যে তথ্য তোলে ধরা হয়েছে বিষয়টি সঠিক নয়। আমরা আলাপ-আলোচনা করে সম্মিলিতভাবে এর প্রতিবাদ করবো। এছাড়া সাধারণ মানুষের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ শেভরন থেকে আদায় করতে সরকারের সহযোগিতা চাই।

বিবিয়ানা এলাকার ৩নং ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নোমান হোসেন বলেন, আমরা এই পক্ষপাত মুলক আচরণ ও তদন্ত রিপোর্ট মানিনা, শিগগিরই এই বিষয়ে আমরা আন্দোলনের পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা করবো।

উল্লেখ্য, নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের করিমপুরে অবস্থিত বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র। যুক্তরাষ্টে্রর কোম্পানি শেভরনের অর্থায়নে পরিচালিত হচ্ছে এটি। গত (১ ফেব্রুয়ারি) বৃহস্পতিবার থেকে (৩ ফেব্রুয়ারি) শনিবার পর্যন্ত বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রে প্রতিদিন ৩-৪ বার বিকট শব্দ ও অতিরিক্ত কাঁপুনি হয়। এতে মাটি কেঁপে ফাটল ধরেছে ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের ২০ গ্রামের দুই শতাধিক ঘর বাড়িতে। বিষয়টি একাধিকবার কর্তৃপক্ষ জানালেও ব্যবস্থা নেয়নি। যেকোনও মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার শঙ্কায় দিন কাটছে স্থানীয়দের।

এঘটনার পর থেকে শিশু থেকে বৃদ্ধ লোকজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ক্ষুব্ধ হয়ে ইনাতগঞ্জ ও দীঘলবাক ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের কয়েক শতাধিক মানুষ বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ড ঘেরাও করে। এ সময় বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডের কার্যক্রম বন্ধ করার দাবি জানান স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সহ গণ্যমান্য ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সংসদ সদস্য আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়াকে অবগত করেন। পরে সংসদ সদস্য মোবাইল ফোনে বিষয়টি সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানালে সরে যান স্থানীয়রা। এরপর মধ্যরাতে পুনরায় অতিরিক্ত কাঁপুনি দিলে আতঙ্ক ছড়ায় স্থানীয়দের মাঝে, পরে (৪ ফেব্রুয়ারি) রবিবার আন্দোলনে নামে তারা।

স্থানীয়রা বিবিয়ানার কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ, সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা দেয়ার ঘটনায় শেভরণের কাছে তিপূরণ দাবী করেন তারা। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।

(৪ ফেব্রুয়ারি) শনিবার আন্দোলনের মুখে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্রোডাকশন বিভাগ সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়।

তদন্ত কমিটির অন্যরা হলেন— সদস্য সচিব বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন ডেভেলপমেন্ট ও প্রোডাকশনের মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহ উদ্দিন, সদস্য বাংলাদেশ পেট্রোলিয়ম এক্সপোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের ভূতাত্ত্বিক বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন।

জৈন্তাবার্তা/জেএ



শীর্ষ সংবাদ: