ছবি সংগৃহীত
জকিগঞ্জ উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের একমাত্র রাস্তাটি এখনো রয়েছে কাঁচা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ৩ কি.মি দুরে এ রাস্তাটির অবস্থান।
তবে এ ইউনিয়নের কয়েকটি রাস্তার উন্নয়ন হলেও এখনো অনুন্নত মৌলভীচক গফুরের দোকান থেকে আইয়র-উত্তর আইয়র রাস্তা। স্থানীয়দের দাবি প্রত্যেক নির্বাচনে প্রতিনিধিরা এ রাস্তার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও, যেখানে পৌঁছেনি উন্নয়নের ছোয়া কিংবা কাঁচা সড়কে ইট বিছানোর মতো কার্যকর পদক্ষেপ। (হাজীগঞ্জ বাজারের পশ্চিমে সাড়ে চারশ মিটার ইট সলিং ছাড়া) বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তাটি চলাচলের জন্য একেবারে অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় সহস্রাধিক জনসাধারণকে। এছাড়াও কাঁচা রাস্তার পাশে অবস্থিত কয়েকটি গ্রাম উন্নয়নে অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় মোট সড়কের বেশির ভাগ রাস্তাঘাট ব্রিকস/সলিং করা হলেও বাকি রয়েছে কসকনকপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ।
বর্ষা মৌসুমে জকিগঞ্জের বেশিরভাগ গ্রামীণ সড়কের বেহাল দশা হয়। তার মধ্যে অন্যতম হাজীগঞ্জ সড়ক। বৃষ্টির মৌসুমে গ্রামীণ এই কাঁচা সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কাদা রাস্তায় দুর্ভোগে পড়তে হয় এ অঞ্চলের মানুষকে। ছোট ছোট যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, কাদা পানিতে একাকার হয়ে যায়। এমনকি এলাকার রাস্তা দিয়ে মানুষের চলাচল কষ্টকর হয়ে পড়ে।
তবুও প্রয়োজনের তাগিদে দুর্ভোগকে সঙ্গী করেই যাতায়াত করছে বৃহত্তর হাজীগঞ্জ এলাকার মানুষ। শুধু কাঁচা রাস্তায় নয়, টানা বৃষ্টিতে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে গত কয়েকদিন থেকেও। ওই সময় রাস্তায় ভ্যান, মোটরসাইকেল, বাইসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী,ছোট শিশু,বৃদ্ধ মহিলা ও লোকজন এতে প্রতিনিয়ত সমস্যায় সম্মুখীন হচ্ছে বলে জানা যায়।
জানা যায়, কসকনকপুর ইউনিয়নের ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের একমাত্র কাচা রাস্তা হলো এটি। দীর্ঘদিন যাবত তাঁরা কাঁচা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। হাজীগঞ্জ বাজার থেকে ৪৫০ মিটার জায়গা মধ্যখানে ইট সলিং। কিন্তু পশ্চিম দিকে ১ কি.মি. এবং পূর্বদিকে দুটি রাস্থায় আরো ৪ কি.মি. জায়গা কাঁচা থাকার কারনে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসী।
দীর্ঘদিন যাবত এ সড়কের এ অবস্থা কেন জানতে চাইলে স্থানীয় এক যুবক জানান, সরকারি বরাদ্দ আসে কিন্তু ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ অন্যত্র চলে যায়। যাদের অধীনে কাজ আসে তাদের পকেট তাজা হয় এমন মন্তব্য করেন তিনি।
স্থানীয় এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে প্রতি নির্বাচনে প্রতিনিধিরা এ রাস্তার উন্নয়নে আশা দেখিয়ে ভোট নিতে আসেন। কিন্তু রাস্তার সূচনা থেকে এ যাবৎ কোন প্রতিনিধি দ্বারাই তাদের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যদিও কোন কোন প্রতিনিধি মাঝে মধ্যে মাটিভরাটের কাজ করলেও বর্ষাকালে ঠিকই সকলের দূর্ভোগ পোহাতে হয়। এলাকাবাসী তাদের এই দূর্ভোগ দূরীকরণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানান।
আগামী ১৭ জুলাই ইউনিয়নটিতে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এলাকাবাসীকে ৪ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী আশ্বাস দিয়েছেন রাস্থাটির উন্নয়নের জন্য। হাজীগঞ্জ বাজার থেকে পশ্চিম দিকে নদীভাঙ্গনের কারনেও ইতিমধ্যে হারিয়েছেন অনেকেই ভিটামাটি। নদীভাঙ্গন প্রতিরোধে সাবেক ও বর্তমান এমপির সাথে এলাকাবাসী বারবার দাবী জানালেও কোন কাজ হয়নি। বিগত দুই বছর আগে হাজারো লোকের উপস্থিতিতে মানববন্ধনও করেছেন তারা।
জৈন্তাবার্তা/এমকে




