ফাইল ছবি
হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণীর প্রথম বর্ষের তিন মেয়ে শিক্ষার্থী দফায় দফায় লাঞ্ছিত হওয়ায় ভয়ে পরীক্ষা দিতে পারে নাই। বাধ্য হয়ে তারা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছে। মাস দুয়েকের ব্যবধানে কলেজে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ নির্ভীকর। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়া হবে। এনিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) ভুক্তভোগী তিন শিক্ষার্থী তাদের অভিভাবকদের সাথে নিয়ে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে মৌখিকভাবে অবগত করেন।
ভুক্তভোগী তিন শিক্ষার্থী জানান, গত বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তারা তিন বান্ধবী মিলে কলেজের অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার শেষে গল্প করছিলেন। এ সময় কলেজর একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বাঁধন তাদের উদ্দেশ্য করে অশালীন কথাবার্তা বলেন। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করলে বাঁধনের সহপাঠী আলভি, রাকিবুল ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিম আহমেদ ইমন তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করাসহ মারতে তেড়ে আসে।
এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা ভয়ে প্রথমে শিক্ষক অলিউর রহমানকে বিষয়টি জানান। অলিউর রহমান তাদের সাথে নিয়ে কলেজের অপর শিক্ষক মানিক চৌধুরীকে বিষয়টি অবগত করেন। বিষয়টি অবগত করার সময় শিক্ষক মানিক চৌধুরীর সামনেই আলভি ও তার সহযোগীরা পুনরায় তাদের গালাগালসহ কলেজের বাহিরে এসে তিন মেয়ে শিক্ষার্থীকে দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। এ সময় নিরাপত্তার জন্য তারা দীর্ঘক্ষণ কলেজে অবস্থান শেষে অভিভাবকদের অবগত করে এক শিক্ষকের মাধ্যমে কলেজ ত্যাগ করেন। পথিমধ্যে তাদের অভিভাবকরা এগিয়ে এসে তাদের বাড়ি নিয়ে যান।
গত (বৃহস্পতিবার) সকালে তিন শিক্ষার্থী অর্ধ বার্ষিকী পরীক্ষা দিতে আসলে কলেজের সামনে আলভি পুনরায় তাদের মারতে তেড়ে আসে। এরপর তিন শিক্ষার্থী প্রাণভয়ে অর্ধ বার্ষিকী পরীক্ষা না দিয়ে তাদের অভিভাবকদের সাথে নিয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন শৃঙ্খলা সভা চলাকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করেন।
ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক তাপস খান বলেন, আমাদের সামনেই যদি আমাদের সন্তানদের হামলার শিকার হতে হয় তবে আমাদের সন্তানের কিভাবে পড়ালেখা করাবো।
উল্লেখ্য, গত জানুয়ারি মাসে কলেজে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় একাদশ শ্রেণীর ২য় বর্ষের এক মেয়ে শিক্ষার্থী হেনেস্থার স্বীকার হন। সামাজিক সম্মানের ভয়ে বিষয়টি পরে মীমাংসা করতে বাধ্য হয় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর পরিবার।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উমর ফারুক চৌধুরী সময়ের আলোকে জানান, ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিলো। উভয়পক্ষের সাথে আলাপ করে আগামী শনিবার বিষয়টি মীমাংসার কথা রয়েছে।
কলেজে একাধিকবার এমন ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমরা সব সময় এসব বিষয়ে সার্বিক নজরদারি রাখছি, তারপরও কখনও অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে এসব ঘটনা ঘটে যায়। তবে কলেজের পক্ষ থেকে আমরা শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তায় নজরদারি রাখছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জুয়েল ভৌমিক বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




