ফিলিপাইনি বধূ জুবেলিন বাউতিস্তা স্বামী আশিকুর রহমান মিশু।
প্রেমের টানে হবিগঞ্জের মাধবপুরে আসা সেই ফিলিপাইনি বধূ জুবেলিন বাউতিস্তা স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি নিয়ে সুখের সংসার করছেন।
হবিগঞ্জের মাধবপুরে শ্বশুর বাড়িতে ফিলিপাইনি বধূ জুবেলিন বাউতিস্তা স্বামী আশিকুর রহমান মিশুকে নিয়ে সুখের সংসার করছেন। ছবি: সময় সংবাদ
গত ৪ মার্চ ওই তরুণী প্রেমিক মিশুকে বিয়ে করতে আসেন বাংলাদেশে। পরে ৫ মার্চ হবিগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এর মধ্য দিয়ে ৫ বছরের প্রণয়ের সম্পর্ককে পরিণয়ে রূপ দেন এই প্রেমিক যুগল। বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে নিয়ে বেশ আনন্দে রয়েছেন জুবেলিন। আর ভিনদেশি বউয়ের আন্তরিকতা ও ভালবাসায় আপ্লুত শ্বশুর-শাশুড়িসহ বরের পরিবারের লোকজনও।
হবিগঞ্জের মাধবপুরের যুবক আশিকুর রহমান মিশু চাকরির সুবাদে প্রায় ৫ বছর আগে কাতারে যান। সেখানে পরিচয় হয় ফিলিপাইনি তরুণী জুবেলিন বাউতিস্তার সঙ্গে। এরপর তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সময়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্কও গভীর হতে থাকে। বাংলাদেশের সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে জানালে জুবেলিনের তা পছন্দ হয়। নিজেও বাংলাদেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন তিনি। অবশেষে তাকে বিয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশে আসেন তারা।
গেলো সপ্তাহে প্রিয় মানুষটির সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন জুবেলিন। নিজের নাম পরিবর্তন করে রেখেছেন জান্নাত রহমান। বিয়ের পর পরিবারের লোকজনকে নিয়ে মাধবপুর কামারহাঁটি গ্রামে থাকছেন এ দম্পতি। কিছুদিন পর কাজের প্রয়োজনে আবার কাতারে যাবেন তারা। তবে শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরে প্রিয় বাংলাদেশেই থাকবেন বাকি জীবন। এদিকে ভিনদেশি বধূ পেয়ে মিশুর পরিবারে বইছে খুশির বন্যা। হইচই পড়েছে পুরো এলাকায়। নববধূকে দেখতে ছুটে আসছেন অনেকেই। বিয়ের পর জুবেলিনের বাবা-মাসহ পরিবারের সবাই অনেক খুশি। মেয়ের সঙ্গে তারাও রাখছেন সার্বক্ষণিক যোগাযোগ। বিদেশি নববধূর আন্তরিকতায় মুগ্ধ পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা।
ফিলিপাইন থেকে হবিগঞ্জে আসা কনে জুবেলিন বাউতিস্তা বলেন, বাংলাদেশকে আমি খুব ভালোবাসি। এখানকার মানুষের আন্তরিকতা এবং সবার ভালোবাসা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি তাদের সঙ্গে থাকতে চাই।
কাতার ফেরত বর আশিকুর রহমান মিশু জানান, বিয়ের পর তারা অনেক ভালো আছেন এবং উভয়ের পরিবারও খুব খুশী আছেন। তিনি ধর্মঘর কামারহাটি গ্রামের স্কুল শিক্ষক লুৎফুর রহমানের ছেলে।
জৈন্তাবার্তা/জেএ




