সংগৃহিত
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া চা বাগানে সাপ্তাহিক মজুরি না পেয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন ৮৫০ জন শ্রমিক। সোমবার (২৬ অক্টোবর) তাঁদের সাপ্তাহিক মজুরি পাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা পরিশোধ করা হয়নি। ফলে মজুরি ছাড়াই খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয় শ্রমিকদের। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন তাঁরা। বকেয়া মজুরি পরিশোধ না করা পর্যন্ত কাজে ফিরতে অনাগ্রহী শ্রমিকরা।
একসময় দেশের অন্যতম পরিপাটি ও স্বনামধন্য চা বাগান হিসেবে পরিচিত ছিল নোয়াপাড়া চা বাগান। তবে আর্থিক সংকটের কারণে কয়েক বছর ধরে বাগানটিতে নানা সমস্যা চলছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুর্শেদ খানের মালিকানাধীন এ বাগানটি বর্তমানে গুরুতর আর্থিক সংকটে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রায়।
বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি, গত কয়েক বছর ধরে নোয়াপাড়া চা বাগানের জন্য ব্যাংকঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। আর্থিক সংকটের কারণে একসময় বাগানের গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে কারখানাটি পুনরায় চালু করা হয়। এরপর শ্রমিকদের মজুরি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং চায়ের বিক্রয়মূল্য প্রত্যাশিত হারে না বাড়ায় প্রতিবছর লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বাগানে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যা চলছে। কখনো মজুরি নিয়ে অনিশ্চয়তা, আবার কখনো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সংকট দেখা দিচ্ছে। এবার সাপ্তাহিক মজুরি না পাওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বাগানের শ্রমিক নেতা খেলু নায়েক বলেন, ‘বাগানের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। মালিকপক্ষ নিয়মিত শ্রমিকদের মজুরি দিতে পারছে না। সোমবার মজুরি পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টাকা না পেয়ে সবাই খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন। সপ্তাহ শেষে মজুরি পেলে সেই টাকা দিয়ে চাল, ডালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে সংসার চালাই। এখন মজুরি না পেলে আমাদের চলবে কীভাবে?’
তিনি বলেন, চা শ্রমিকদের অধিকাংশই স্বল্প মজুরিতে কোনো রকমে সংসার চালান। তাঁদের হাতে সঞ্চিত অর্থও থাকে না। সপ্তাহের মজুরি দিয়েই পরিবারের খাবারসহ প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হয়। নির্ধারিত সময়ে মজুরি না পাওয়ায় শ্রমিক পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
নোয়াপাড়া চা বাগানের সভাপতি কমেট নায়েক বলেন, ‘মজুরি কবে দেওয়া হবে, এ বিষয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ আমাদের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। মজুরি না পাওয়ায় মঙ্গলবার শ্রমিকরা কাজে যোগ দেননি। বাগানে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সমস্যা চলছে। মালিকপক্ষ বাগান পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছে। এর ফলে শ্রমিকদের দুর্ভোগ বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার থেকে বাগানে কর্মবিরতি চলছে। কত দিন এ কর্মসূচি চলবে, তা বলা যাচ্ছে না। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হলে তাঁরা কাজে ফিরতে রাজি আছেন। বিষয়টি মাধবপুর উপজেলা প্রশাসন ও শ্রীমঙ্গলের শ্রম অধিদপ্তরকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে নোয়াপাড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক সোহাগ মাহমুদ বলেন, ‘অর্থের অভাবে শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। কোম্পানি চলমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। প্রতি বছরই আমাদের লোকসান হচ্ছে। চা উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় সবকিছুর দাম বেড়েছে, কিন্তু চায়ের দাম সেভাবে বাড়ছে না। এ অবস্থায় বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে বাগান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।’
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




