ছবি : সংগৃহীত
অবশেষে ফুরাল ইংল্যান্ডের দীর্ঘ অপেক্ষা। ফুরাল বায়ার্ন মিউনিখের অপেক্ষা। ফুরাল হ্যারি কেইনের অপেক্ষাও। মাইকেল ওয়েনের পর ইংল্যান্ডের প্রথম ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতলেন কেইন। সোমবার দিবাগত রাতে লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে ব্যক্তিগত মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার জিতলেন বায়ার্ন মিউনিখ স্ট্রাইকার। তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদ কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও।
৩৩ বছর বয়সী কেইন ইংল্যান্ডের পঞ্চম ফুটবলার হিসেবে ব্যালন ডি’অর জিতলেন। এর আগে ১৯৫৬ সালে স্ট্যানলি ম্যাথুস, ১৯৬৬ সালে ববি চার্লটন এবং ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে টানা দুবার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন কেভিন কিগান।
আর সর্বশেষ ২০০১ সালে এই পুরস্কার জিতেছিলেন ওয়েন। যুক্তরাজ্যের অন্য দুই বিজয়ী হলেন স্কটল্যান্ডের ডেনিস ল (১৯৬৪) ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের জর্জ বেস্ট (১৯৬৮)।
এবার ব্যালন ডি’অরের ভোটে দ্বিতীয় হয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় হয়েছেন বার্সেলোনা ও স্পেনের তরুণ ফরোয়ার্ড লামিনে ইয়ামাল।
পুরস্কার জিতে নিজের দীর্ঘ পথচলার কথা তুলে ধরেছেন কেইন। ডিএজেডএন’কে তিনি বলেন, ‘অনেকেই হয়তো এটা ভাবেননি, এমনকি আমিও হয়তো ভাবিনি যে এত দূর আসতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, “ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আমাকে অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তখন কেউ আমাকে এখনকার কিছু খেলোয়াড়ের মতো সম্ভাব্য সুপারস্টার মনে করত না।”
কঠোর পরিশ্রমে এতদূর আসা কেইনের। তা নিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে নিজের সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। অনেক সময় লড়াইটা ছিল নিজের মনের সঙ্গে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হয়েছে, নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হয়েছে, দেখাতে হয়েছে দৃঢ়তা ও সংকল্প।”
“আমার মনে হয়, এসব অভিজ্ঞতা আমাকে মাটির কাছাকাছি থাকতে সাহায্য করেছে। সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও উন্নতি করা এবং আরও ভালো হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যেতে শিখিয়েছে।” যোগ করেন কেইন।
ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল কেইনের এই অর্জনে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এই পুরস্কার জেতা কেইনের জন্য ‘বিশাল সম্মানের’।
প্রিন্স উইলিয়ামও সাবেক টটেনহামের এই খেলোয়াড়ের প্রশংসা করেছেন। কেইনকে তিনি ‘দুর্দান্ত অধিনায়ক’ ও ‘অসাধারণ খেলোয়াড়’ বলে অভিহিত করেছেন।
গত মৌসুমে ক্লাবের হয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১ গোল করেন কেইন। এক মৌসুমে বায়ার্নের কোনো খেলোয়াড়ের এটাই সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা যোগ করলে ৬৫ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৭৩, সঙ্গে ছিল ৮টি অ্যাসিস্ট। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের কোনো ক্লাবের হয়ে এক মৌসুমে কেইনের চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছেন ইতিহাসে মাত্র একজন খেলোয়াড়।
তবে ব্যক্তিগত এই সাফল্য পেলেও গত মৌসুমে খুব বেশি বড় শিরোপা জিততে পারেননি কেইন। গত মৌসুমে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে তাকে। তারপরও ব্যালন ডি’অর জিতে অনন্য কীর্তি গড়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। ১৯৮১ সালে কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগের পর বায়ার্ন মিউনিখের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন তিনি।
কেইনের সাফল্য উদ্যাপনে সোমবার রাতে লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামের খিলানগুলো সোনালি আলোয় আলোকিত করা হয়।
অন্যদিকে মেয়েদের ব্যালন ডি’অর আবারও গেছে স্পেনে। ৩২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস রেকর্ড তৃতীয়বারের মতো জিতেছেন ব্যালন ডি’অর ফেমিনিন। টানা ষষ্ঠ বছরের মতো এই পুরস্কার স্পেনের হাতেই থাকল।
জৈন্তাবার্তা/আরআর




