ছবি: নিজস্ব প্রতিনিধি, সফল খামারি বিলাল
মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে (এইচএসসি সমমান) চলে যান সৌদি আরব প্রবাসে। দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে দেশে ফিরে বর্তমানে সফল একজন খামারি গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পঞ্চম খন্ড গ্রামের মরহুম নুরুল হুদার ছেলে আলহাজ্ব বিলাল নুরুল।
সরেজমিন গিয়ে তার সাথে কথা বলে জানা যায়, মাদ্রাসায় লেখাপড়া শেষ করে ২০০১ সালে চলে যান সৌদি আরবে। সেখানে দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর থাকাকালীন সময়ে কাজের ফাঁকে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে কৃষি বিষয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রাম দেখতেন। সেই থেকে তারও স্বাদ জাগে ভালো একজন কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার। প্রবাস জীবনের লাঞ্ছনা বঞ্চনা দুঃখ কষ্ট থেকে নিজেকে মুক্তি দিতে ২০০৭ সালে চলে আসেন নিজ দেশে। প্রথম দিকে স্হানীয় ফতেপুর বাজারে কৃষির বিভিন্ন কীটনাশক বিক্রির ছোট খাট দোকান দিয়ে শুরু করেন। পরপরই শুরু করেন ৩ টি পুকুরে মাছ চাষ।এরপর আর তাকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি অফিস ও প্রাণিসম্পদ অফিসের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় এবং তার সঠিক পরিকল্পনায় স্বল্প পুঁজিতে শ্রম ও র্নিষ্ঠার সাথে কাজ করে হয়ে উঠেছেন একজন সফল খামারি। বর্তমানে তার রয়েছে পোল্ট্রি খামার,দেশীয় গরুর খামার, ৪ টি মাছের ফিসারী, জারা লেবু মালটা ও বিভিন্ন জাতের শাক সবজির বাগান। যা থেকে তিনি বছরে সব খরচ মিটিয়ে ও কর্মরত শ্রমিকদের পারিশ্রমিক দিয়ে আয় করতে পারেন ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। ফতেপুর বাজারের সেই ছোট খাটো দোকান এখন সার বীজ ও কীটনাশক বিক্রির সাব ডিলার বিলাল নুরুল।
এছাড়াও তিনি,বছরের তিন মৌসুমে করে থাকেন আমন আউশ ও বোরো আবাদ।এই চলতি মৌসুমেও ৭ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ করেছেন। ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে।উন্নত জাতের ধানের মধ্যে রয়েছে চিনির গুড়া, কালোজিরা ব্রি-৪৮ সহ স্হানীয় জাতের ধান।
এমনকি তিনি নিজে জৈব সার তৈরি করে থাকেন। যার জন্য তাকে আর বাজার থেকে রাসায়নিক সার কেনার প্রয়োজন পড়ে না।
সফল খামারি আলহাজ্ব বিলাল নুরুল দৈনিক জৈন্তা বার্তাকে জানান, প্রবাস থেকে উদ্দেশ্য করে দেশে ফিরে খামার শুরু করেন। সর্বপ্রথম তিনি ৩ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে শুরু করেন। বর্তমানে তার খামারে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার মত পুঁজি রয়েছে। সবকিছু দিয়ে বছরে তিনি ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা আয় করতে পারেন।
ভার্মি কম্পোস্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, বাজারে যেটা পাওয়া যায় তা নিম্নমানের হয়ে থাকে। সাথে সাথে ব্যবহার করা যায় না গুণগত মান ভালো না থাকায় তিনি উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের সহায়তায় গত দুই বছর ধরে নিজ উদ্যোগে জৈব সার তৈরি করছেন। যেটা শাকসবজি ও ফসলাদিতে নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায়।
সফল এ খামারি বলেন, প্রবল ইচ্ছা ও মনোবল শক্তি থাকলে দেশেও চাহিদা সম্পন্ন কিছু একটা করে বেকারত্ব থেকে দূরে থাকা সম্ভব। তার এ সফলতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিলুর রহমান তাকে পুরস্কৃত করেছেন।
ছাত্রনেতা রিয়াজ উদ্দিন বাবুল বলেন, বিলাল নুরুল ভাই সফল একজন খামারি ব্যবসায়ী ও আদর্শ একজন কৃষক। তিনি আমাদের এলাকার মানুষের কাছে একজন অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি দৈনিক জৈন্তা বার্তাকে বলেন, বিলাল নুরুল একজন সফল কৃষক ও সফল খামারি। সে সাব ডিলার ও বিআইডিসির নন ইউরিয়া সার ও বীজ ডিলার। তার দেখাদেখি এলাকার অনেকেই কৃষিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, বিলাল নুরুল আমাদের কৃষি অফিসের সর্বক্ষেত্রে সকল পরামর্শ ও নির্দেশনা মেনে চলে সফল খামারী হতে সক্ষম হয়েছে।
এম.এইচ.এ




