ছবি : সংগৃহীত
মালয়েশিয়ার পাম অয়েলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ (ফিউচার) চুক্তিমূল্য গতকাল মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) নিম্নমুখী ছিল। দেশটির নিয়ন্ত্রক সংস্থা মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী মজুত, উৎপাদন ও রপ্তানির পরিমাণও কমেছে। এ কারণে বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলটির দামও কমেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর রয়টার্সের।
ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থাটির খবরে বলা হয়, বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে সরবরাহের চুক্তিতে বেঞ্চমার্ক পাম অয়েলের দাম ১৬৫ রিঙ্গিত বা ৩ দশমিক ২২ শতাংশ কমেছে। এর ফলে প্রতি মেট্রিক টন পাম অয়েলের দাম কমে ৪ হাজার ৯৫৫ রিঙ্গিতে (১ হাজার ১১৯ ডলার ৫২ সেন্টে) নেমে বাজারে লেনদেন বন্ধ হয়।
মঙ্গলবার মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ডের (এমপিওবি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দেশটিতে পাম অয়েলের মজুত টানা দ্বিতীয় মাসে কমেছে। গত নভেম্বর মাসে মজুত আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টনে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকরা বলেছেন, মজুতের এই নিম্নমুখিতা বেঞ্চমার্ক ফিউচারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।
নভেম্বর মাসে অপরিশোধিত পাম অয়েলের উৎপাদন ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১৬ লাখ ২০ হাজার টনে নেমে এসেছে, এটি গত চার বছরের মধ্যে নভেম্বর মাসের সর্বনিম্ন উৎপাদনের রেকর্ড। এদিকে পাম অয়েলের রপ্তানি ১৪ দশমিক ৭০ শতাংশ কমে ১৪ লাখ ৯০ হাজার টনে পৌঁছেছে।
সেলাঙ্গরভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান পেলিন্ডুং বেস্টারির পরিচালক পারামালিংগাম সুপ্রমানিয়াম বলেন, এমপিওবির মজুত ও রপ্তানির তথ্য বেশির ভাগ বিশ্লেষকের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলেছে, ফলে পরিসংখ্যানে দেখানো সংখ্যাগুলো দিয়ে আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু ছিল না।
তিনি বলেন, চলতি ডিসেম্বর মাস ও আগামী ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে উৎপাদন প্রবণতার ওপর মনোযোগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক বন্যা ও বৃষ্টির প্রভাবে উৎপাদনে কী প্রভাব পড়বে তা দেখতে হবে।
রয়টার্স জানায়, চলতি বছরের নভেম্বরের শেষের দিকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে মালয়েশিয়ায় একটি বন্যা আঘাত হানে। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ভারী আবহাওয়ার প্রভাবে মালয়েশিয়ার উপকূলীয় পূর্ব অঞ্চল ও বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ ও সারাওয়াক অঞ্চলে ক্রমাগত বৃষ্টি হতে পারে। প্রসঙ্গত, সাবাহ ও সারাওয়াক মালয়েশিয়ার প্রধান পাম অয়েল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম।
এদিকে মালয়েশিয়ার পাশাপাশি চীনের দালিয়ানে পাম অয়েলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্য ২ দশমিক ২৫ কমেছে। একই সময়ে বাজারে সক্রিয় (সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া) সয়াবিন তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্য দশমিক ০৩ শতাংশ বেড়েছে। আর আমেরিকান শিকাগো বোর্ড অফ ট্রেডে (সিবিওটি) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে সয়াবিন তেলের দাম ১ দশমিক ৬১ শতাংশ কমেছে। খবরে বলা হয়, পাম অয়েল বিশ্বব্যাপী তেলের বাজারে একটি শেয়ারের জন্য প্রতিযোগিতার কারণে এটির প্রতিদ্বন্দ্বী ভোজ্যতেলের মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে দামের ওঠানামার সম্পর্ক রয়েছে।
ক্যার্গো পরিদর্শক ইন্টারটেক টেস্টিং সার্ভিসেস গতকাল জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার পাম অয়েল পণ্যের রপ্তানি ডিসেম্বর মাসের ১ থেকে ১০ তারখি পর্যন্ত ৩ দশমিক ৯০ শতাংশ বেড়েছে। আর স্বাধীন পরিদর্শন কোম্পানি এমস্পেক অ্যাগ্রি মালয়েশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ১০ শতাংশ।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




