ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের মিডটাউনের একটি অফিস ভবনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্দুক হামলায় নিহত এনওয়াইপিডির পুলিশ কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অভিবাসী। তার নাম দিদারুল ইসলাম। বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায়। তিনি নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা।
মঙ্গলবার মেয়র এরিক অ্যাডামস সংবাদসম্মেলনে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন অফিসার ইসলাম ছিলেন একজন ‘ট্রু ব্লু নিউ ইয়র্কার’ অর্থাৎ একজন সত্যিকারের নিউ ইয়র্কার।
তিনি আরো বলেন, “ইসলাম তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে এনওয়াইপিডিতে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি বাংলাদেশ থেকে অভিবাসন করে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। আমি তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি এবং তাদের বলেছি—তিনি একজন বীর, যিনি নিজের জীবন দিয়ে শহরকে রক্ষা করেছেন।”
সাংবাদিকদের এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ বলেন, নিহত ইসলাম বিবাহিত ছিলেন এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। তার স্ত্রী বর্তমানে গর্ভবতী, তৃতীয় সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।
টিশ আরো বলেন, “তিনি সেই কাজটাই করছিলেন যা আমরা তাকে করার জন্য পাঠিয়েছিলাম। তিনি সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। তিনি যেমন বেঁচে ছিলেন, তেমনি মৃত্যুবরণ করেছেন। একজন সত্যিকারের বীর হিসেবে।”
হামলার বিস্তারিত জানাতে গিয়ে কমিশনার বলেন, এক হামলাকারী বিএমডব্লিউ গাড়ি করে এসে ভবনের সামনে এম৪ রাইফেল হাতে নামেন এবং ভবনের ভেতরে ঢুকেই পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এরপর এক নারীকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন, এবং পুরো লবিতে বেপরোয়া গুলি ছুড়তে থাকেন। তিনি লিফটের কাছে একজন নিরাপত্তারক্ষী ও আরেক ব্যক্তিকে গুলি করেন। পরে তিনি নিজেই আত্মহত্যা করেন।
মেয়র অ্যাডামস বলেন, “এই ধরনের ভয়াবহ ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কত সহজেই এই দেশে আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। বন্দুক সহিংসতা আমাদের সমাজকে গ্রাস করছে। তবে আজ রাতে আমরা আহতদের জন্য এবং বিশেষ করে অফিসার ইসলামের পরিবারের জন্য প্রার্থনা করি।”
যুক্তরাষ্ট্রের আরেক শহর লাস ভেগাসের কর্মকর্তাদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, ওই হামলাকারীর মানসিক সমস্যা ছিল এবং কেন তিনি এই নির্দিষ্ট ভবনটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন, তা এখনো তদন্তাধীন।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




