ছবি:সংগৃহীত
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে রাখাল নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে মণিপুরী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব-১৮৩তম মহারাসলীলা।
বুধবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে মাধবপুরের শিববাজার উন্মুক্ত মঞ্চ প্রাঙ্গণে শিশুদের রাখাল নৃত্যের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। ঢাক-ঢোল, খোল-করতাল ও শঙ্খধ্বনিতে চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে। আনন্দ-উৎসাহে ভক্তরা নৃত্যরত শিল্পীদের বাতাসা ও টাকা উপহার দেন। উৎসব উপলক্ষে পুরো মণিপুরীপাড়া ঐতিহ্যবাহী সাজে সজ্জিত হয়েছে।
মূল রাসলীলা রাত ১১টা থেকে শুরু হয়ে পরদিন ভোর পর্যন্ত চলবে। বাঁশ ও কাগজ কেটে বিশেষ কারুকাজে তৈরি করা হয়েছে রাসের মণ্ডপ। মণ্ডপের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে বসবেন রাসধারী (রাসের গুরু), সূত্রধারী ও বাদকরা। পাশাপাশি তিনটি মণ্ডপে তরুণীরা রাসলীলায় অংশ নেবেন।
রাসের ক্রমানুসারে পরিবেশিত হবে - সূত্রধারীর রাগালাপ ও বন্দনা, বৃন্দার কৃষ্ণ আবাহন, কৃষ্ণ অভিসার, রাধা ও সখীদের অভিসার, রাধা-কৃষ্ণের সাক্ষাৎ ও মান-অভিমান, ভঙ্গীপর্ব, রাধার কৃষ্ণ-সমর্পণ, যুগলরূপ প্রার্থনা ও আরতি।
এবার মাধবপুর জোড়া মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ১৮৩তম মহারাসলীলা উৎসব। পাশাপাশি কমলগঞ্জের আদমপুরে মণিপুরী মৈতেই সম্প্রদায়ের আয়োজনে পালিত হচ্ছে ৪০তম রাসোৎসব।
উৎসবকে কেন্দ্র করে মাধবপুর ও আদমপুরের মণ্ডপগুলো সাদা কাগজের নকশা ও বাঁশের কারুকাজে দৃষ্টিনন্দনভাবে সাজানো হয়েছে। পুরো এলাকায় রঙিন আলোকসজ্জায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে উৎসবকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




