ছবি:নিজস্ব
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে শীতকালীন সবজির চারা ও বীজ বিক্রির ধুম পড়েছে। সবজি চাষীরা শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও হেমন্তের শুরুতে শীতকালীন টুকটাক সবজি প্রায় সহশীল মূল্যে হাট-বাজারে ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। (৭ নভেম্বর) শুক্রবার হাট-বাজারে ও সবজি ক্ষেতে সরেজমিনে ঘুরে জানাযায় ও দেখা গেছে, জগন্নাথপুর উপজেলা সদর জগন্নাথপুর বাজার, কলকলিয়া বাজার, চিলাউড়া বাজার, রসুলগঞ্জ বাজার, শ্রীরামসি বাজার, মীরপুর বাজার, কেইনবাড়ী বাজার, সৈয়দপুর বাজার ও রানীগঞ্জ বাজার সহ উপজেলার সবকটি হাট-বাজার ও বিভিন্ন পয়েন্টে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা দেশী-বিদেশী জাতের টমেটো, বেগুন, মরিচ, ফুলকপি, বাঁধাকপি সহ বিভিন্ন জাতের সবজির চারা গাছ বিক্রি করছেন এবং ক্রেতা সাধারণ অর্থাৎ শীতকালীন সবজি চাষীরা ধর কষা কষি করে চারা গাছ ক্রয় করছেন। এছাড়াও বিভিন্ন জাতের শীতকালীন সবজির বীজ যেমন শিম, বাখর, সরিষা, বাংলা লাউ, মিষ্টি লাউ, কুমরা, কোয়াশ, লাইপাতার বীজ ইত্যাদি ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। আর উপজেলার হাওর গুলোর উচু জমিতে অনেক সবজি চাষীরা সবজির চারা রোপণ এর জমি তৈরী করছেন এবং অনেকে সবজি চারা রোপণ করে পরিচর্যা করছেন। বিগত সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে অধিক বৃষ্টিপাতের ফলে এই উপজেলায় সবজি গাছের ও চারা গাছের কিছু ক্ষতি হলেও হেমন্তে রোপনকৃত সবজি বাজারে উঠায় ক্রেতা সাধারণ সহনশীল মূল্যে সবজি ক্রয় করে দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে পারছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে
শীতকালীন সবজির ফলন ভাল হলে চাষীরা নিজ চাহিদা মিটিয়ে বর্তমান মূল্যের চেয়ে কম মূল্যে বিক্রি করে বাড়তি অর্থ উপার্জন করতে পারবেন বলে আশাবাদী। এ ব্যাপারে সবজির চারাগাছ ও বীজ বিক্রয়কারী একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, চারাগাছ বেচা-বিক্রি ভালই হচ্ছে।
রিয়া ট্রেডার্স মালিক প্রথাব রঞ্জন দাস বলেন সরকারি প্যাকেটজাত ও বেসরকারি কোম্পানীগুলোর প্যাকেটজাত বীজ নিতে কৃষকরা বেশি আগ্রহী,এবার বীজ ধানে বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। তাই প্রতিযোগিতা মূলক ব্যবসা করতে গিয়ে আমরা অল্প লাভেই বিক্রি করছি।
দেশী জাতের সবজির চারাগাছ ও বীজ এর চেয়ে বিদেশী হাইব্রিড চারাগাছ ও বীজ বিক্রি বেশি হচ্ছে। এ ব্যাপারে সবজি ব্যবসায়ী নূরুল, সাজন ও অনুকুল সহ একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, বিগত কার্তিক মাসের আগে প্রতি কেজি শিম ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেছিলাম। বর্তমানে একই শিম ৫০/৬০ টাকায় বিক্রি করতে পারছি। এক কথায় প্রত্যেক সবজির মূল্য আগের বাজার মূল্যের চেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে। পাইকারী বাজারে সবজির মূল্য কম হওয়ায় খুচরা বাজারে সহনশীল মূল্যে বিক্রি করতে পারছি।
আগামীতে সবজির মূল্য আরো কমবে। এ ব্যাপারে সবজি চাষী মিন্নত আলী, আঙ্গুর মিয়া, আনছার, ফয়সাল ও মতিউর সহ একাধিক সবজি চাষী বলেন, হেমন্তের শুরুতে বৃষ্টিপাত হওয়ায় আগাম সবজিতে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। নতুন করে জমি চাষাবাদ করার পাশাপাশি চারা রোপণ ও বীজ বুনন করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে শীত মৌসুমে এই ক্ষতি পুষিয়ে বাড়তি অর্থ উপার্জন এর আশা পোষণ করছি। এ ব্যাপারে ক্রেতা সাধারণ একান্ত আলাপকালে বলেন, আগের তুলনায় বাজারে কম মূল্যে সবজি ক্রয় করতে পারছি। শীতে সবজির মূল্য আরো কম হবে, বেশি বেশি করে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার আশা করছি।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কাওসার আহমেদ বলেন,সরকার কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে ফসলের উৎপাদন বাড়াতে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন প্রণোদনা দিচ্ছে। এই সহায়তা কৃষকদের কৃষি কাজে আরও উৎসাহিত করবে। চারা ও বীজ বিক্রির ধূম,চাষাবাদে হাতে সরকারি বীজ দিচ্ছি।
জৈন্তাবার্তা / সুলতানা




