ছবি: জৈন্তা বার্তা
মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরশহরে রেলওয়ের লিজকৃত জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে ট্রাক পরিবহন শ্রমিকদের সড়ক অবরোধের ঘটনায় তিন ঘণ্টা ধরে স্থবির হয়ে পড়ে কুলাউড়া-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়ক। এতে শত শত যানবাহন ও যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। অবশেষে সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ সড়ক থেকে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করলে স্বস্তি ফেরে জনমনে।
শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বড়লেখা পৌরশহরের উত্তর চৌমুহনী এলাকায় ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের উদ্যোগে এই অবরোধ শুরু হয়। রেলওয়ের জমিতে পাকা স্থাপনা নির্মাণের প্রতিবাদে শ্রমিকরা খাদ্যগুদামের পাশে এবং চৌমুহনী পয়েন্টে ট্রাক আড়াআড়ি করে সড়ক বন্ধ করে দেয়। এতে কুলাউড়া ও চান্দগ্রামমুখী সড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়, আটকে পড়ে শতাধিক হালকা, ভারী ও দূরপাল্লার যানবাহনসহ কয়েকটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও।
সরেজমিনে জানা গেছে, প্রায় ১৫ বছর আগে রেলওয়ের পরিত্যক্ত নিচু ভূমি ভরাট করে ট্রাক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন সেখানে পাকা টিনসেট ঘর নির্মাণ করে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। সম্প্রতি ওই ভূমির উত্তর ও পশ্চিম পাশে স্থানীয় কয়েকজন-মৃত মজির উদ্দিনের ছেলে জাকারিয়া আহমদ, ব্যবসায়ী হারুনুর রশীদ, গোলজার আহমদ ফকু ও নুরুল আমীন-স্থাপনা নির্মাণ শুরু করলে বিরোধ দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার রাতে তারা কয়েকফুট দেয়াল তোলেন, যা শ্রমিকদের ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইফুর রহমান খলকু বলেন, ‘এই ভূমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। ২০০৮ সালে তারা একবার চেষ্টা করেছিল, তখনও আমরা বাধা দিয়েছিলাম। বৃহস্পতিবার রাতে আবার অবৈধভাবে দেয়াল তোলায় বাধ্য হয়ে আমরা সড়ক অবরোধ করি। পুলিশের কোনো সহযোগিতা পাইনি।’
‘অন্যদিকে জাকারিয়া আহমদ ও হারুনুর রশীদ দাবি করেন, ‘আমরা রেলওয়ে থেকে বাণিজ্যিক লিজ নিয়ে নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছি। বৈধভাবে আমাদের দোকানঘর নির্মাণ করছি।’
ছাতক থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, ‘সকালে অবরোধের কারণে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। আমরা শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের বারবার অনুরোধ করেছি ট্রাক সরাতে, কিন্তু তারা রাজি হয়নি। পরে সেনাবাহিনীর সহায়তায় দুপুর ১টার দিকে সড়ক পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।’
দীর্ঘ তিন ঘণ্টার এই অবরোধে বড়লেখা পৌরশহর থেকে কুলাউড়া ও চান্দগ্রামমুখী রুটে ব্যাপক যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভুক্তভোগীরা স্বস্তি ফিরে পান।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




