ভালো ফলন, তবু মুখে হাসি নেই কৃষকের
রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:২৪ AM

ভালো ফলন, তবু মুখে হাসি নেই কৃষকের

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫/০১/২০২৬ ০৪:৩১:৫৫ PM

ভালো ফলন, তবু মুখে হাসি নেই কৃষকের

সংগৃহিত


দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় সোনালি ধানের মাঠ জুড়ে এখন ব্যস্ততা। রাতদিনের পরিশ্রম আর ভালো ফলনে কৃষকেরা ঘরে তুলছেন হাজার হাজার মণ ধান। তবে উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে ধানের দাম কম থাকায় মুখে হাসি নেই কৃষকদের। বরং লোকসানের শঙ্কায় দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন তারা।চলতি মৌসুমে খানসামা উপজেলায় ১৩ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ৭৫৭ হেক্টর জমিতে। এসব জমি থেকে উৎপাদন হয়েছে ৪৮ হাজার ৮৮ মেট্রিক টন ধান।

কৃষি বিভাগ বলছে, ফলন সন্তোষজনক হলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারদর কম থাকায় কৃষকেরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন।উপজেলার পাকেরহাট ঘুরে দেখা গেছে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধানের দাম প্রতি বস্তায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। বর্তমানে বি আর–৫১ জাতের প্রতি বস্তা (৮০ কেজি) ধান বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকায়। একই দামে বিক্রি হচ্ছে গুটি স্বর্ণ জাতের ধান। জিরা–৯০ জাতের ধানের দাম প্রতি বস্তা ২ হাজার ৩০০ টাকা।

মাজারডাঙ্গা গ্রামের কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি তিন বিঘা জমিতে স্বর্ণ–৫ জাতের ধান চাষ করেছি। মোট ৭০–৮০ মণ ধান পেয়েছি। কিন্তু সার, বীজ, কীটনাশক আর শ্রমিকের খরচ মিলিয়ে ৬০–৬৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এখন যে দামে ধান বিক্রি হচ্ছে, তাতে লাভ তো দূরের কথা, খরচও উঠছে না।’পাকেরহাটে ধান বিক্রি করতে আসা কৃষক আনিছুর রহমান জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ২৬ হাজার টাকার বেশি। তিনি বলেন, ‘ভালো ফলন পেয়েও কম দামের কারণে লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।’এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক জমির ধান পড়ে গেছে। এতে কাটামাড়াইয়ে অতিরিক্ত শ্রমিক লাগছে, ফলে খরচ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি ভেজা ও ক্ষতিগ্রস্ত ধান কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকেরা। কিছু ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রতি কেজি ৩৪ টাকা দরে এ পর্যন্ত ১৪১ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ, এই সংগ্রহ কার্যক্রম খুবই সীমিত হওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে না।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে ধান আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন ভালো হয়েছে। বর্তমানে ধানের দাম কিছুটা কম থাকলেও সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রম বাড়ানো হলে ধীরে ধীরে দাম স্থিতিশীল হবে।’আশ্বাস নয়, বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ দেখতে চাওয়া কৃষকদের মতে, দ্রুত ও মাঠপর্যায়ে সরকারি ধান ক্রয় কার্যক্রম জোরদার করা না হলে ভালো ফলনের এই মৌসুমও তাদের জন্য স্বস্তির বদলে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা



শীর্ষ সংবাদ:

নিয়ম-নী*তিহীন কাঠের চু*ল্লিতে উ*জাড় হচ্ছে বৃক্ষসম্পদ
সুরমার দুই পাড়ে সবুজের হাতছানি, শুরু হচ্ছে সবুজ বিপ্লব
‘বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র রক্ষার আপসহীন প্রতীক’ - খন্দকার মুক্তাদির
শাহজালালের মাজারে কোটি টাকার দান, এবার হিসাব হবে নতুন নীতিমালায়
‘নৃ*শংস হ*ত্যাকা*ণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছা*ড় দেওয়া হবে না’: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বের কারণেই দেশে গণতন্ত্র ফিরেছে’: কাইয়ুম চৌধুরী
চা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে- শ্রমমন্ত্রী
খোলা হয়েছে শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স, চলছে গণনা
সিলেটে তিন খু'নের নেপথ্যে জমির বি'রোধ?
হা'মের উপসর্গে সিলেটে আরও দুই শিশুর মৃ'ত্যু