ছবি:সংগৃহীত
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর অংশ হিসেবে সিলেট বিভাগে আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ১ কোটি ২৫ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও বেশি গাছ লাগানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সিলেটে বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বিভাগীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন অপরিহার্য। মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে অক্সিজেন গ্রহণ করে কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করে। অন্যদিকে গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ছাড়ে। প্রকৃতির এই ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষের ভূমিকা অপরিসীম।
তিনি বলেন, বিভিন্ন কারণে যেসব এলাকায় পর্যাপ্ত বনায়ন ও বৃক্ষরোপণ হয় না, সেসব এলাকায় পরিবেশদূষণ ও ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। তাই পরিবেশ রক্ষায় পরিকল্পিতভাবে বেশি বেশি গাছ লাগানোর পাশাপাশি বিদ্যমান গাছ সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে।
খাল-জলাশয় ও নদীর পাড়ে হবে বৃক্ষরোপণ
সিলেটে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জেলার বিভিন্ন খাল ও জলাশয়ের দুই পাশে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে যুক্ত করা হবে।
তিনি জানান, সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে প্রায় ১৭ কিলোমিটার সুরমা নদীর তীরের দুই পাশে বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব এলাকায় বিপুলসংখ্যক গাছ লাগানো হবে।
এ ছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি গাছ লাগানো হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, শুধু নির্দিষ্ট কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নগরের রাস্তার পাশে, নদী-খাল ও জলাশয়ের তীরে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের খালি জায়গায় পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়; পরিবেশ রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হতে হবে। একটি গাছ লাগানোর পর সেটি যাতে বেড়ে উঠতে পারে, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু গাছ লাগানোর সংখ্যা বাড়াতে চাই না, লাগানো গাছগুলোকে টিকিয়ে রাখার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে এখন থেকেই সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
উপস্থিত ছিলেন যারা
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বিভাগীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মোর্শেদ শামীম, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবদুর রহমান, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




