ছবি: জৈন্তা বার্তা
সবুজের বুকে এ যেন হলুদ গালিচায় মোড়ানো বিস্তৃত প্রান্তর। যে দিকে চোখ যাবে, শুধুই হলুদের মাখামাখী।হাকালুকির হাওড়ের বুক জুড়ে এখন এমনই দৃশ্যে যে কারো মন কেড়ে নেবে।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার হাওড় পারে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিস্তৃত মাঠজুড়ে এখন সরিষার হলুদ ফুলের ঢেউ। দূর থেকে দেখে মনে হয়, যেন কৃষকের জমিতে হলুদের চাদর বিছানো। সরিষার ফলন দেখে কৃষকের মনে আনন্দের হাসির ঝিলিক দেখা গেছে।
কৃষি বিভাগের প্রচেষ্টায় কয়েক বছর ধরে উপজেলার চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হয় সরিষা চাষাবাদের জন্য। আর তাই এ বছর হাকালুকি হাওড়সহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চাষিরা গত বছরের চেয়ে ১০ হেক্টর বেশী জমিতে সরিষা আবাদা করেন। কৃষি বিভাগ বিনামূল্য সার- উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ কৃষকের বিতরণ করায় গত বছরের ছেয়ে এবার বেশী সরিষা চাষাবাদে এগিয়ে আসেন কৃষকরা।
উন্নতজাত ও আবহাওয়া অনুকুল থাকার পাশাপাশি ব্যাপক সংখ্যক মৌমাছির আগমন গঠায় সরিষা খেতের ফুলে পরগায়ন হয়েছে আশাতীত। এতে সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি উৎপাদন এলাকা হাকালুকি হাওড় পাড়, দাসের বাজার ইউনিয়ন, সোজানগর, তালিমপুর ও বর্ণি ইউনিয়ন।
সরেজমিনে গেলে, দাসের বাজার ইউনিয়নের মাইজমজুরী গ্রামের কৃষক সত্য কুৃমার বিশ্বাস জানান, তিনি গত বছর ৮ বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করে সারা বছর পরিবারের ভোজ্য তেলের চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকার সরিষা বিক্রয় করেছেন। এবার ২ বিঘা বেশী জমিতে আবাদ করেছেন, ফলনও হয়েছে ভাল। আশা করছেন এবার ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রয় করতে পারবেন।
অরুন বিশ্বাস বলেন, মাইজমজুরী গ্রামের প্রায় প্রতিটি পরিবার সরিষা আবাদ করেন। এলাকার কেউ ভোজ্য তেল কিনে আনতে হয়না। আমরা আমাদের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি আয় করতে পারি। স্থানীয় বাজারে সরিষার তেলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এতে এলাকায় সরিষার আবাদল দিন দিন বাড়ছে।
তালিমপুর ইউনিয়নের সরিষা চাষি সেলিম উদ্দিন বলেন, এই ফসল আবাদে খরচ খুবই কম। আমি প্রতি বছরই সরিষার আবাদ করি। এবার ৮ বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। আশাকরি বিঘা প্রতি ৮ থেকে ৯হাজার টাকা লাভ হবে।
কৃষক মিন্টু বিশ্বাস বলেন,আমি প্রতিবার সরিষার আবাদ করি। কৃষি অফিস থেকে সার- বীজ দেয়া হয়। এবার ১০ বিঘা জমিতে করেছি। গত বছরের তুলনায় এবার বেশী হয়েছে। ৮ বছর ধরে আমার তেল কিনতে হয়না। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বিক্রয় করতে পারি। আমার একটা বাড়তি আয় হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় ২৫৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০ হেক্টর বেশি। আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে এ বছর সরিষার ফলন অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি হয়েছে। গত বছর প্রতি হেক্টরে এক দশমিক দুই মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবছর এক দশমিক তিন মেট্রিক টন উৎপাদন হবে। যা গত বছরের চেয়ে ২৬৭ মেট্রিক টন বেশী।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এস এম রাশেদুজ্জামান বিন হাফিজ বলেন, উপজেলা ব্যাপী আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে রবি মৌসুমের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। কৃষকদের সরিষা চাষে উদ্বুদ্ধ করা করা হয়। এতে কৃষকরা এগিয়ে আসে। ফলে তারা কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে পতিত জমিতে সরিষা চাষ করে লাভবান হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মনোয়ার হোসেন এ বছর সরিষার বাম্পার ফলনের কথা জানিয়ে বলেন, ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকেরা এবার ব্যাপকহারে সরিষার আবাদ করেছেন। অল্প খরচে সরিষার আবাদ করে লাভবান হচ্ছে কৃষকরা। এতে আগামী বছরেও কৃষকরা অধিক আগ্রহ নিয়ে সরিষা চাষে এগিয়ে আসবে। ক্রমান্বয়ে সরিষার আবাদ বৃদ্ধি পাবে। সেই সঙ্গে ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




