ছবি:সংগৃহীত
দেশে আবারও ভোট চুরির ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে মৌলভীবাজারের শেরপুরের আইনপুর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে একটি রাজনৈতিক দল এনআইডি কার্ড ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ভোটারদের বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, অতীতে দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে ভোট ডাকাতির নজির রয়েছে। এখন আবার নতুন করে একটি দল একই প্রক্রিয়ায় ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের ভূমিকা দেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট। ইতিহাস মুছে ফেলা যায় না। সে সময় দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন, মা-বোনেরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জনগণ তাদের প্রকৃত চেহারা বহু আগেই দেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জনসভায় তারেক রহমান তার ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়নের রূপরেখাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষিত ও অল্প শিক্ষিত বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। দেশের ভেতরে ও বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে, যাতে প্রবাসে গিয়ে তারা বেশি আয় করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, মৌলভীবাজার অঞ্চলের প্রায় ১৩০টি চা বাগানের শ্রমিকরা বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তাদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা বা নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। একই সুবিধা পাবে দিনমজুর, কৃষক ও শ্রমজীবী পরিবারের সদস্যরাও।
কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথা জানান বিএনপি চেয়ারম্যান। পাশাপাশি তিনি ইমাম, খতিব ও মোয়াজ্জিনদের জন্য সরকারিভাবে সম্মানী প্রদানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন।
তারেক রহমান বলেন, মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমাম, খতিব ও মোয়াজ্জিনরা সমাজের সুখ-দুঃখের সাথী। তাদের সম্মানের সাথে জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করা বিএনপির দায়িত্ব।
জনসভায় তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার রক্ষার আহ্বান জানান।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




