মৌলভীবাজার-২ আসন পার্থক্য গড়তে পারে চা-শ্রমিকদের ভোট
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ০৫:১৮ PM

মৌলভীবাজার-২ আসন পার্থক্য গড়তে পারে চা-শ্রমিকদের ভোট

মহি উদ্দিন, কুলাউড়া প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৯/০১/২০২৬ ১১:৪৬:০৯ PM

মৌলভীবাজার-২ আসন  পার্থক্য গড়তে পারে  চা-শ্রমিকদের ভোট

ছবি:সংগৃহীত


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী ৮ প্রার্থী। চা-বাগান, পাহাড়, টিলা ও হাকালুকি হাওর অধ্যুষিত এলাকা ভোটারদের সমর্থন পেতে তৎপর রয়েছেন প্রার্থীরা। প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধরনা দিচ্ছেন এবং ভোট কামনা করছেন। আর ভোটাররাও প্রার্থীদের কাছে এলাকার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন দাবি তুলছেন। 

এদিকে, সকল প্রার্থী চা-বাগান এলাকার ভোটারদের অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। তারা চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও জীবনমান উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। 

এবারের নির্বাচনে কুলাউড়ায় মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতায় নামলেও ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, ফুটবল ও কাপ-পিরিচ প্রতীকের মধ্যেই মূল লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ভোটাররা মনে করছেন। আর সেই লড়াইয়ে জিততে চা-শ্রমিকদের ভোটের দিকে তাকিয়ে আছেন প্রার্থীরা। কারণ এই আসনে বিগত নির্বাচনগুলোতে চা-শ্রমিকদের সিংহভাগ ভোট নৌকা প্রতীকে পড়েছিল। এবার সেই ভোটারদের দৃষ্টি যে প্রার্থীর দিকে যাবে, সেই প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই সকল প্রার্থী চা-শ্রমিকদের গুরুত্ব দিয়ে ভোটের মাঠে জোরেসোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। 

নির্বাচনী মাঠে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু ধানের শীষ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলী দাঁড়িপাল্লা, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান ফুটবল, স্বতন্ত্র প্রার্থী ফজলুল হক খান সাহেদ কাপ-পিরিচ, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এম. জিমিউর রহমান চৌধুরী ঘোড়া প্রতীক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত আব্দুল কুদ্দুস হাতপাখা, জাতীয় পার্টি মনোনীত মো. আব্দুল মালিক লাঙ্গল ও বাসদ (মার্কসবাদী) মনোনীত প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী কাঁচি প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে সরব রয়েছেন। 

কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মুক্তাদির মনু বলেন, কুলাউড়ার চা-বাগানগুলোতে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকুর ব্যাপক প্রচারণা চলছে। চা-শ্রমিকরা ভোটের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন। এবারের নির্বাচনে যেহেতু আওয়ামী লীগ মাঠে নেই, তাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল হিসেবে চা-শ্রমিকরা বিএনপিকেই বেছে নেবে এবং ধানের শীষে ভোট দেবে বলে আমরা শতভাগ আশাবাদী। 

বিএনপির প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু বলেন, ১৭ বছর পর দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য মানুষ ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তারা বিএনপিকে ভোট দিতে চায়। আগামী সরকার বিএনপি গঠন করতে যাচ্ছে- এ বিষয়টি জনগণের কাছে পরিস্কার। তাই কুলাউড়ার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে কুলাউড়াবাসী, বিশেষ করে চা-শ্রমিকসহ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোকজন বিএনপির পক্ষে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমেছে। আমি আশাবাদী, কুলাউড়ার মানুষ আমাকে এমপি নির্বাচিত করবে। 

জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মো. সায়েদ আলী বলেন, কুলাউড়া আসনে অতীতে একাধিকবার অন্য দলগুলোকে ভোট দিয়ে প্রত্যাশিত কোনো উন্নয়নই হয়নি। মানুষের ধারণা জন্মেছে, এবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় জামায়াতে ইসলামী যাবে এবং কুলাউড়ার সন্তান ডা. শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। 

তিনি আরও বলেন, কুলাউড়ার চা-শ্রমিকদের শিক্ষা, চিকিৎসাসহ জীবনমান উন্নয়নকে আমরা অগ্রাধিকার দেবো। 

স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপি নওয়াব আলী আব্বাছ খান বলেন, কুলাউড়া আমার ভালোবাসার জায়গা। এই এলাকার মানুষের অধিকার ও উন্নয়নের লক্ষ্যে আমি অতীতে সংসদ সদস্য হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছি। আগামীতেও কুলাউড়ার সার্বিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে তুলে ধরতে আপনাদের সমর্থন ও ভোট প্রত্যাশা করছি। 

স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক খান সাহেদ বলেন, বিগত দিনে কুলাউড়া উপজেলা পরিষদে আমি দুইবার ভাইস চেয়ারম্যান ও একবার চেয়ারম্যান ছিলাম। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কুলাউড়াবাসীর উন্নয়নে বৃহৎ পরিসরে কাজ করার জন্য এমপি পদে প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচনী প্রচারণায় সকল শ্রেণির ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আশা করছি আমি বিজয়ী হবো। 

উল্লেখ্য, মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় মোট ভোটার সংখ্যা হলো ৩ লাখ ৩ হাজার ২০। পোস্টাল ভোট ৫ হাজার ৫৯১। মোট ভোটকেন্দ্র ১০৩। 


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ