ছবি:সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য নওয়াব আলী আব্বাছ খান বলেছেন, কুলাউড়ার মানুষের কাছে তিনি একজন পরীক্ষিত জনপ্রতিনিধি। তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সংসদে ও এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তিনি শেষবারের মতো কাজে লাগাতে চান।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কুলাউড়া পৌর শহরের ডাকবাংলো মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন। আমি বিজয়ী হলে কুলাউড়াকে একটি শান্তিপূর্ণ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবো।” তিনি বলেন, চা-বাগানের শ্রমিক ও ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর মানুষের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে ছিলেন এবং এবারও তাদের সমর্থন প্রত্যাশা করেন।
তিনি বলেন, চাইলে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও সংসদ সদস্য হতে পারতেন। তবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণে তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি। তিনি বর্তমানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১২ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত কাজী জাফর জাতীয় পার্টির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান ঘোষিত জাতীয় সরকার গঠনের রূপরেখায় তিনি একজন সদস্য হিসেবে থাকবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রশাসনের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নওয়াব আলী আব্বাছ খান বলেন, কোনো নিরীহ মানুষকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে হয়রানি করা যাবে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া কাউকে হয়রানি করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। পাশাপাশি তিনি সাবেক এমপি নওয়াব আলী সারোয়ার খান, এএনএম ইউসুফ মুক্তার, সুলতান মনসুর, এম এম শাহীন ও আব্দুল জব্বারের কুলাউড়ার উন্নয়নে অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।
কুলাউড়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কিছু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী তার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। অথচ তিনি প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সময় অনেকের রাজনৈতিক জীবনই শুরু হয়নি। তার সময়ে কুলাউড়া–রবিরবাজার, ব্রাহ্মণবাজার-শমসেরনগর, কুলাউড়া-সাগরনাল ও জুড়ী-ফুলতলা সড়ক নির্মাণ করা হয়। এছাড়া তার পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তিতে পুরনো ডাকবাংলো, কুলাউড়া থানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয় ও টিএনটি এক্সচেঞ্জ অফিস স্থাপন করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তার উদ্যোগেই ডাকবাংলো মাঠ আধুনিকায়ন ও স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে, যা বর্তমানে দল-মত নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচির কেন্দ্রস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নওয়াব আলী আব্বাছ খান বলেন, তিনবার সংসদ সদস্য থাকাকালে তার কোনো সমর্থক থানায় দালালি বা পিআইও অফিসে কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিল না। নির্বাচিত হলে সকল মত ও পথের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর কুলাউড়া উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। একই সঙ্গে শহরের যানজট নিরসন, হাকালুকি হাওরসহ পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন, কৃষি ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার প্রতিশ্রুতি দেন।
সাবেক শিক্ষক মুহিবুর রহমান লাল মিয়ার সভাপতিত্বে এবং উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি শেখ আশরাফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টি নেতা ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী মুহিবুল কাদির পিন্টু, পৃথিমপাশা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নবাব আলী নকী খান, আলী বাকর খান হাসনাইন, সমাজসেবক নওয়াব আলী তকী খান ও ছাত্রনেতা নওয়াব আলী হাসিব খানসহ অন্যরা।
উল্লেখ্য, নওয়াব আলী আব্বাছ খান ১৯৮৮, ১৯৯১ ও ২০০৮ সালে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালের পর তিনি এরশাদের জাতীয় পার্টি ত্যাগ করে কাজী জাফরের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। দীর্ঘ বিরতির পর এবার তিনি ফুটবল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




