মৌলভীবাজার-৪ আসন শেষ হাসির অপেক্ষা
শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ০৯:১৩ AM

মৌলভীবাজার-৪ আসন শেষ হাসির অপেক্ষা

রবি উদ্দিন, শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০২/২০২৬ ১১:৩১:২৯ PM

মৌলভীবাজার-৪ আসন  শেষ হাসির অপেক্ষা

ছবি:সংগৃহীত


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা এ আসনে এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। মাঠের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ভিন্ন মত। 

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এই দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে রয়েছে ১৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভা। প্রায় ২ হাজার ৫০০ জন পোস্টাল ভোটারসহ মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫৫৮ জন। দুই উপজেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৬৩টি। 

এবারের নির্বাচনে এই আসনে মোট ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেনÑ বিএনপি থেকে মুজিবুর রহমান চৌধুরী (ধানের শীষ), বিএনপির বিদ্রোহী (বহিষ্কৃত) স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু (ফুটবল), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে প্রীতম দাস (শাপলা কলি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা নূরে আলম হামিদী (রিকশা), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) থেকে অ্যাডভোকেট মো. আবুল হাসান (মই) এবং জাতীয় পার্টি থেকে মো. জরিফ হোসেন (লাঙ্গল)। 

স্বাধীনতার পর সংখ্যালঘু ও চা শ্রমিকদের ভোটের ওপর ভিত্তি করে আসনটি আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী না থাকায় ভোটের সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। 

বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, মুজিবুর রহমান চৌধুরী ২০০১ সাল থেকে এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছেন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে প্রায় চার বছর কারাবরণ করেছেন। ২০০১, ২০০৯ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে সাবেক কৃষিমন্ত্রী উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোট কারচুপির মাধ্যমে পরাজিত হয়েছেন বলে তাদের অভিযোগ। এছাড়া ব্যক্তিগত তহবিল থেকে দীর্ঘদিন উন্নয়নমূলক কর্মকা- চালিয়ে যাওয়ার কথাও প্রচার করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় ব্যক্তিগত ইমেজ, অতীতের রাজনৈতিক নির্যাতন এবং বিএনপি ঘোষিত নাগরিক সুবিধার প্রতিশ্রুতিকে সামনে রেখে মুজিবুর রহমান এগিয়ে রয়েছেন বলে স্থানীয় একাধিক ভোটার মত দিয়েছেন। 

অন্যদিকে, শ্রীমঙ্গলের সাবেক পৌর মেয়র মহসিন মিয়া মধু ফুটবল প্রতীক নিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও ব্যক্তিগত সমর্থকদের নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। এ ছাড়া ১১ দলীয় জোট থেকে দুইজন প্রার্থী রয়েছেনÑ জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রীতম দাস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা নূরে আলম হামিদী। জোট থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তাদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুরুতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট আব্দুর রব সক্রিয় প্রচারণা চালালেও জোটের অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে বিভক্তির আভাস পাওয়া গেছে। 

বর্তমান পরিস্থিতিতে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে এগিয়ে রাখছেন অনেকে। আর ফুটবল, রিকশা ও শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থীদের মধ্যে মূলত দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থান নিয়ে ত্রিমুখী লড়াই হবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা। বাসদ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা মাঠে থাকলেও তাদের খুব বেশি ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। 

সব মিলিয়ে মৌলভীবাজার-৪ আসনে এবার নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। চূড়ান্ত রায় দেবে ভোটাররাই। এখন সেই অপেক্ষায় প্রার্থীরাসহ শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জবাসী। 

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ