সংগৃহিত
ঝিনাইদহে তেল নিতে গিয়ে পাম্পশ্রমিকদের মারধরে নিরব হোসেন (২২) নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনার পর ওই পাম্পের মালিকের একটি বাসসহ তিন বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ লোকজন। শনিবার (৭ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এই ঘটনা ঘটে।
বাসে আগুনের ঘটনায় রোববার (৮ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা ঝিনাইদহ-মাগুরা-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এরপর প্রশাসনের সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন শ্রমিকেরা। পরে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে সদর হাসপাতালের মর্গে নিহত ওই যুবকের ময়নাতদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে আসামি করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বাবা। তবে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক তিন পাম্পশ্রমিককে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের বারইখালী গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে, আড়ুয়াকান্দি গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে রবিজুল ইসলাম ও সুরাট ইউনিয়নের কাস্টসাগরা গ্রামের সাফিয়ার রহমানের ছেলে দাউদ হোসেন।
জানা গেছে, শহরের বাস টার্মিনাল এলাকার তাজ ফিলিং স্টেশনে শনিবার রাতে মোটরসাইকেলে তেল নিতে যান নিরব হোসেন (২২) ও তার এক বন্ধু। তখন পাম্পশ্রমিকেরা বলেন, ‘তেল নেই. পাম্প বন্ধ আছে।’ পরে অন্য পাম্পে গিয়ে তেল না পেয়ে তারা ফেরার সময় দেখেন, ওই পাম্পে বোতলে তেল দেওয়া হচ্ছে। তখন তারা শ্রমিকদের বলেন, ‘আপনারা আমাদের তেল দিলেন না, এখন আবার বোতলে বিক্রি করছেন।’ এ নিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পাম্পশ্রমিকেরা নিরব হোসেনকে মারধর করেন। তখন তিনি বাসায় ফিরে গিয়ে অসুস্থবোধ করলে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিরবকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিরব হোসেন একটি সিম কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের আলিমুর বিশ্বাসের ছেলে এবং ঝিনাইদহ শহরের বকুলতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




