ছবি:সংগৃহীত
আসন্ন ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় লোকদেখানো তৎপরতার পরিবর্তে কার্যকর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
শনিবার (১৪ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের পুরোনো নৈরাজ্যকর পদ্ধতি বহাল রয়েছে। পরিবহন খাতে কাঠামোগত কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি এবং আইন অনুযায়ী মালিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায়ও আনা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রীদের বাস টার্মিনালে গণমাধ্যম ও মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে নিয়ে পরিদর্শন করাকে ‘আইওয়াশ’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রকৃত পরিস্থিতি জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সন্ধ্যার পর ছদ্মবেশে সাধারণ যাত্রী সেজে রাজধানীর সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গিয়ে টিকিট কাটার চেষ্টা করা উচিত। তাতে যাত্রীদের ভোগান্তির প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। প্রয়োজনে দলীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছ থেকেও বাস্তব তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঈদ উপলক্ষে বাস ও লঞ্চ ভাড়া না বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলেও বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন রুটে এসি সিটে দ্বিগুণ এবং নন-এসি সিটে কোথাও দ্বিগুণ আবার কোথাও তিনগুণ পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ঢাকা-গাজীপুর ও ঢাকা-মাওয়া রুটে যেখানে ভাড়া ৮০ টাকা, সেখানে বিভিন্ন পরিবহনে যাত্রীদের কাছ থেকে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
এ অবস্থায় কেবল গণমাধ্যমে প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং যাত্রীদের বাস্তব ভোগান্তি দূর করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব। তিনি নতুন সড়ক, রেল ও নৌ পরিবহন মন্ত্রীর প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া ও হয়রানি বন্ধ করা যায়।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




