ছবি:সংগৃহীত
সিলেট নগরীর রায়নগর রাজবাড়ি আবাসিক এলাকায় ব্যবসায়ী ও সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক পরিচালক মো. আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিহত আব্দুস সাত্তারের মেয়ে সেলিনা সুলতানা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে দেওয়া অভিযোগে সেলিনা সুলতানা দাবি করেন, সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি এবং পূর্ববিরোধের জেরেই তাঁর বাবা-মা ও গৃহকর্মীকে ‘পেশাদার ভাড়াটে খুনিদের’ মাধ্যমে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ ইতোমধ্যে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করছে।
অভিযোগপত্রে সেলিনা সুলতানা উল্লেখ করেন, তিনি যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এবং হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১৩ আগস্ট দেশে ফেরেন।
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ
সেলিনা সুলতানার অভিযোগ অনুযায়ী, রায়নগর এলাকার সম্পত্তি এবং পুলিশ লাইন লুসাই গির্জা সমিতির ভূমির মালিকানা নিয়ে তাঁর বাবা আব্দুস সাত্তারের সঙ্গে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ-সংক্রান্ত একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন।
তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময় মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁর বাবা ও পরিবারের সদস্যদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযোগে সেলিনা আরও উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারি বিকেলে অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামসহ কয়েকজন তাঁদের পৈতৃক বাসায় গিয়ে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন। এ সময় তাঁদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
ওই ঘটনার পর তিনি কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার একজন
এর আগে বুধবার (১২ আগস্ট) রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর ‘নিকুঞ্জ ভিলা’ থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছোরাও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন হত্যাকাণ্ডের পেছনে সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
তদন্তে সামনে আসছে একাধিক প্রশ্ন
নিহতের মেয়ের নতুন অভিযোগের পর হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না-এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে। পাশাপাশি সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, পূর্বের সাধারণ ডায়েরি, মামলার নথি, হুমকির অভিযোগ, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক তথ্য খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
তবে অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাঁদের বিরুদ্ধে করা দাবিগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এদিকে নিহত আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের জানাজা শুক্রবার আসরের নামাজের পর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শাহী ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁদের মানিক পীরের টিলায় দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন অভিযোগ এবং পুলিশের চলমান তদন্তে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে কী তথ্য বেরিয়ে আসে, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




