জুড়ীতে ছাত্রকে নির্যাতনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
মৌলভীবাজারের জুড়ীর গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নে শিলুয়া উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের এক শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ কম্পিউটার 'চুরির অপবাদে' শারীরিক নির্যাতনের প্রতিবাদে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা গতকাল বৃহস্পতিবার পাঠদান কার্যক্রম বর্জন করে বিক্ষোভ করেছেন। নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী পার্শ্ববর্তী কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
নির্যাতনের শিকার জিসান আহমদ (১৬) শিলুয়া উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজের ২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে ওই প্রতিষ্ঠানের নৈশপ্রহরী মব উল্লাহর ছেলে। ল্যাপটপ কম্পিউটার চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ তাঁকে (মব উল্লাহ) সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মব উল্লাহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে নির্মিত একটি ঘরে দীর্ঘদিন ধরে থাকেন।
স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ১৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ছুটি ছিল। ৩১ অক্টোবর বিদ্যালয় খোলার পর প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল ল্যাবে থাকা একটি ল্যাপটপ কম্পিউটারের হদিস মিলছিল না। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে এটি সহকারী প্রধান শিক্ষকের টেবিলের ড্রয়ারে পাওয়া যায়। এ নিয়ে গত বুধবার দুপুরে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোয়ালবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন আহমদ, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম, কয়েক জন ইউপি সদস্য, পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্য ও শিক্ষকেরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে নৈশপ্রহরী মব উল্লাহ ও তাঁর ছেলে জিসানকেও হাজির করা হয়। এ সময় ল্যাপটপ 'চুরির অপবাদ' দিয়ে জিসানকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার বাবা মব উল্লাহকে সাময়িক বরখাস্ত করার কথা জানানো হয়। পরে আহত জিসানকে স্বজনেরা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, এর প্রতিবাদে তাঁরা গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুইটা পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে বিক্ষোভ করেন।
বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থী গৌতম পাশী, রানা গোয়ালা, চন্দন দাসসহ আরও কয়েক জন জানান, নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন।
জিসানের বাবা মব উল্লাহ দাবি করেন, ছুটির সময় তাঁর ছেলে বাড়িতে ছিল না। বৈঠকে সবার চাপাচাপিতে নিজের জীবন বাঁচাতে জিসান ল্যাপটপ সরানোর কথা স্বীকার করে। এরপরও তাকে নির্যাতন করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুর রহমান পাঠদান বর্জন করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করেন। প্রধান শিক্ষক বলেন, চুরি হওয়া ল্যাপটপটি জিসান তার নামে পাসওয়ার্ড দিয়ে লক করে রেখেছিল। ১ নভেম্বর পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে সে চুরির কথা স্বীকারও করে। বৈঠকে তাকে শাসন করা হয়েছে। নির্যাতনের অভিযোগ সঠিক নয়। আর জিসান তার বাবা মব উল্লাহর কাছ থেকে ডিজিটাল ল্যাব ও সহকারী প্রধান শিক্ষকের কক্ষের চাবি আনে। এ কারণে দায়িত্বে অবহেলায় মরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন আহমদ নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেন।
জুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রঞ্জন চন্দ্র দে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
JA




