ছাতকে সাবেক মেয়র কাউন্সিলর দ্ব*ন্দ্বের ব*লি নিরীহ শ্রমিক
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৮ AM

ছাতকে সাবেক মেয়র কাউন্সিলর দ্ব*ন্দ্বের ব*লি নিরীহ শ্রমিক

মোশাররফ হোসেন, ছাতক প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৫/০৪/২০২৬ ১১:১৪:০১ PM

ছাতকে সাবেক মেয়র কাউন্সিলর দ্ব*ন্দ্বের ব*লি নিরীহ শ্রমিক

ছবি: জৈন্তা বার্তা


সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভায় সাবেক মেয়র ও এক কাউন্সিলরের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে তাজউদ্দীন নামে এক নিরীহ শ্রমিকের জীবন আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে চাকরিহীন এই শ্রমিক বর্তমানে মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিষয়টি নিয়ে উপজেলাজুড়ে আইনের শাসন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

জানা যায়, ছাতক পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরেরবন্দ এলাকার মৃত আব্দুল মালিকের ছেলে তাজউদ্দীন ২০১২ সালে মাত্র ৫ হাজার টাকা বেতনে অস্থায়ী ভিত্তিতে পৌরসভায় শ্রমিক হিসেবে যোগ দেন। স্থায়ী চাকরির আশায় টানা ১০ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০২১ সালে পৌরসভায় কর্মচারী নিয়োগ ও পদোন্নতির জন্য গঠিত কমিটির অধীনে এমএলএসএসসহ কয়েকটি পদে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নিয়ে তাজউদ্দীন এমএলএসএস পদে উত্তীর্ণ হন। একই বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদানের জন্য নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।

তবে যোগদানের মাত্র ২০ দিনের মাথায় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। সাবেক মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী ও কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকুলীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হলে তা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। অভিযোগ ওঠে, ওই দ্বন্দ্বের জেরে তাজউদ্দীনের বিরুদ্ধে কাউন্সিলরকে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। পরে কোনো লিখিত নোটিশ, তদন্ত বা শুনানি ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬ (সংশোধিত) অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে হলে যথাযথ কারণ, লিখিত নোটিশ এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগে তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু তাজউদ্দীনের ক্ষেত্রে এসব আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

চাকরি ফিরে পেতে তাজউদ্দীন ২০২৫ সালের ৪ জুন সুনামগঞ্জের সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্ত করা হয়নি; বরং বেআইনিভাবে কর্মস্থল থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া, মামলার ব্যয় এবং আয়হীনতার কারণে তিনি বর্তমানে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

অর্থাভাবে তার সন্তানদের পড়াশোনা ও বৃদ্ধা মায়ের চিকিৎসাও ব্যাহত হচ্ছে। তাজউদ্দীন ও তার স্ত্রী অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণেই অন্যায়ভাবে তাকে চাকরি থেকে সরানো হয়েছে এবং তারা এ বিষয়ে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর তাসলিমা জান্নাত কাকুলি বলেন, ‘তাকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আমার সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না-একজন সাধারণ শ্রমিক কীভাবে সহযোগিতা করবে?’

সাবেক মেয়র আবুল কালাম চৌধুরী এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

ছাতক পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক ডিপ্লোম্যাসি চাকমা বলেন, ‘গরিব লোকটির চাকরি হওয়া প্রয়োজন। যেহেতু বিষয়টি আদালতে রয়েছে, আশা করি আদালত একটি সঠিক সিদ্ধান্ত দেবেন।’

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ