সারা দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকটের প্রেক্ষাপটে যেখানে সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে, সেখানে সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভায় দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র।
অভিযোগ উঠেছে, দিনের আলো ফুটে ওঠার পরও নিয়মিতভাবে সড়কবাতি এবং পৌরসভা ভবনের বাইরের আলোগুলো জ্বালিয়ে রাখা হচ্ছে। এটি স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের সূর্য ওঠার অনেক পর সকাল ৭টা পর্যন্ত গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে সড়কবাতি জ্বলতে দেখা যায়। শুধু তাই নয়, পৌরসভা ভবনের বাইরের আলোগুলোও একইভাবে জ্বলতে থাকে। এতে একদিকে বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ সংকটে ভোগা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রতিদিন লোডশেডিংয়ের কারণে ভোগান্তিতে থাকি। কিন্তু দিনের বেলায় যখন অপ্রয়োজনীয়ভাবে সড়কবাতি জ্বালানো হয়, তখন এটা খুবই দুঃখজনক এবং অযৌক্তিক মনে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক বলেন, রাতে যখন প্রয়োজন তখন অনেক সময় আলো থাকে না, আবার দিনের আলোয় এসব বাতি জ্বালিয়ে রাখা হয়। এটা সম্পূর্ণ অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বহীনতার পরিচয়।
সচেতন মহলের মতে, এটি শুধুমাত্র অবহেলা নয়, বরং তদারকির বড় ধরনের ঘাটতির ফল। তারা মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করত বা স্বয়ংক্রিয় টাইমার বা সেন্সরভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করত, তাহলে এ ধরনের অপচয় অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব হতো।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে— যেমন টাইমার সুইচ, ডে-নাইট সেন্সর বা স্মার্ট লাইটিং সিস্টেমে সহজেই এ সমস্যার সমাধান করা যায়। এতে শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ই হবে না, বরং পৌরসভার আর্থিক ব্যয়ও কমবে।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিদ্যুতের অপচয় বন্ধ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ সংকটের এই সময়ে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্টরা জনভোগান্তি কমাতে সচেষ্ট হবেন এবং ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করবেন।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




