নবীগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় সৌদি প্রবাসীর বাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ!
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ১০:১৩ PM

নবীগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় সৌদি প্রবাসীর বাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ!

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০/০৫/২০২৬ ০৫:০৮:২৩ PM

নবীগঞ্জে চাঁদা না দেওয়ায় সৌদি প্রবাসীর বাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ!

সংগৃহীত


হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় জায়গা ক্রয় করে বিপাকে পড়েছেন আব্দুল হান্নান নামে এক সৌদি আরব প্রবাসী। চাঁদা না দেওয়ায় তিনি বাড়ি নির্মাণ করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার না পেয়ে জমিতে বাড়ি নির্মাণে বাধা ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আউশকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকিদকে প্রধান আসামি করে ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অন্যদিকে মামলা-হামলাসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ওই সৌদি আরব প্রবাসী।

হবিগঞ্জের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমল-০৫ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন নবীগঞ্জ উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের বাসিন্দা সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুল হান্নান। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নবীগঞ্জ থানা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) দুলাল মিয়া সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের রুদ্রপুর মৌজার প্রায় ১১০ শতক ভূমি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাবেয়া খানম চৌধুরীর মালিকানাধীন। ওই ভূমি বিক্রির জন্য মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আমমোক্তার হিসেবে সৈয়দ আওরঙ্গজেবের সঙ্গে বাদীর বায়না চুক্তি সম্পন্ন হয়। ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় জমি বিক্রির চুক্তি করে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বায়না প্রদান করেন বাদী আব্দুল হান্নান। এরপর থেকে তিনি জমির দখলে রয়েছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, সম্প্রতি ওই জমিতে বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নিলে প্রধান আসামি জাকির হোসেন মুকিদ ও ২ নম্বর আসামি আব্দুর রউফসহ অন্য আসামিরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে জমিতে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

বাদীর অভিযোগ, গত ২ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তিনি জমিতে বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করতে গেলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হাজির হন। এ সময় তারা জোরপূর্বক ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে মারধর, গালিগালাজ এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুল হান্নান বলেন, “সৌদি আরবে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থে দেশে জায়গা ক্রয় করেও এখন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছি। ইউপি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুকিদসহ একটি চক্রকে চাঁদা না দেওয়ায় আমাকে বাড়ি নির্মাণে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির নেতৃবৃন্দের দ্বারস্থ হলেও কোনো সহযোগিতা পাইনি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।

তিনি আরও বলেন, “আমি একজন প্রবাসী হিসেবে দেশে সম্পত্তি কিনে যে হয়রানির শিকার হয়েছি, দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে প্রবাসীরা দেশে এসে জায়গা ক্রয় ও ঘরবাড়ি নির্মাণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।

এ বিষয়ে আউশকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকিদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমার মেজো ভাইয়ের সঙ্গে আব্দুল হান্নানের জায়গা নিয়ে একটি বিরোধ চলে আসছে। তবে আমি এসবের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। চাঁদা দাবির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ঘটনার কোনো সত্যতা নেই। তিনি আরও বলেন, “সম্প্রতি আব্দুল হান্নান ওই জায়গায় নির্মাণকাজ শুরু করলে সত্তরের দশকে আমার বাবার নামে ডিক্রি থাকার সুবাদে আমার ভাই আদালতে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন করে মামলা করেন। পরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করলে পুলিশ এসে তা বাস্তবায়ন করে।

উল্লেখ্য- গত ২০ এপ্রিল জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ও গত ১৬ এপ্রিল বাড়ি নির্মাণ কাজে চাঁদা দাবীর অভিযোগে আদালতে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন সৌদি আরব প্রবাসী আব্দুল হান্নান।

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা