ছবি:সংগৃহীত
‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ পেয়েছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ দৈনিক জালালাবাদের স্টাফ রিপোর্টার এটিএম তুরাবসহ জুলাই-২৪ আন্দোলনে নিহত পাঁচ সাংবাদিকের পরিবার।
রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। ‘জুলাই শহীদ সাংবাদিক সম্মাননা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি)।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ এটিএম তুরাবসহ পাঁচ সাংবাদিকের পরিবারকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এটিএম তুরাবের পরিবারের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন দৈনিক জালালাবাদের সম্পাদক ও এনইসির নির্বাহী সদস্য মুকতাবিস-উন-নূর।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণমাধ্যমের কাজ ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। কিন্তু বিগত ফ্যাসিবাদের সময়ে অনেক গণমাধ্যম সেই দায়িত্ব পালন না করে তোষামোদে ব্যস্ত ছিল। এই তোষামোদ আর দেখতে না চাইলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনো তা দেখা যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘তোষামোদ, মোসাহেবি-এই জিনিসটা আর দেখতে চাই না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখনো তা দেখা যায়। রাজনীতিতে একই ঘটনা ঘটে, আমলাতন্ত্রেও একই ঘটনা ঘটে। আমরা কেন জানি না, জাতিগতভাবে এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারছি না।’
মির্জা ফখরুল বলেন, জাতিগতভাবে এই সংস্কৃতি থেকে বের হতে একটি বড় ধরনের বিপ্লবের প্রয়োজন হতে পারে, যে বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আমূল পরিবর্তন আসবে। জুলাই সনদ অনুযায়ী বিএনপি যেসব বিষয় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, দেশে যেন আর কোনো ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে জন্য জাতিকে সর্বক্ষণ সজাগ রাখতে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সম্পাদকদের এই নতুন সংগঠনে ঢাকা ছাড়াও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সম্পাদকরাও সমান গুরুত্ব পাবেন।
যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি অবজারভার-এর সম্পাদক শফিকুল আলম, নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির এবং দৈনিক জালালাবাদ সম্পাদক মুকতাবিস-উন-নূর।
অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়-এর মা শামসী আরা জামান এবং শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদীর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম পপিও বক্তব্য দেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




