ছবি:সংগৃহীত
সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী দুই মামলায় জামিন পেয়েছেন। ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলাগুলোতে তাঁর জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষে তা যথাযথ ঘোষণা (রুল অ্যাবসলিউট) করেছেন হাইকোর্ট।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।
তবে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে আরও মামলা থাকায় আপাতত তিনি কারামুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জয়া ভট্টাচার্য, অনুপ কুমার সাহা, মিন্টু কুমার মণ্ডলসহ অন্যরা। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম সুজন।
আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য জানান, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলার বিচার ট্রাইব্যুনালে চলছে। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাঁর জামিন স্থগিত রয়েছে।
তিনি বলেন, অপর চারটি মামলার মধ্যে আগে দুটি মামলায় হাইকোর্ট রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করে জামিন দিয়েছিলেন। রোববার আরও দুটি মামলায় জামিন পেয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস। তবে বাকি দুটি মামলা থাকায় এখনই তাঁর কারামুক্তির সুযোগ নেই।
রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনজুরুল আলম সুজন বলেন, দুই মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন। এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে নোট দেওয়া হয়েছে।
এর আগে ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা ওই দুই মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন প্রশ্নে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। সেই রুলের ওপর শুনানি শেষে আজ আদালত রায় ঘোষণা করেন।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে মামলাগুলোর সূত্রপাত ২০২৪ সালের শেষ দিকে। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় তাঁকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর ২৬ নভেম্বর তাঁর জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধা, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা এবং ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগে পৃথক মামলাও করা হয়। এসব মামলায় গ্রেপ্তারের পর থেকে কারাগারে রয়েছেন চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




