সংগৃহিত
“আজকের তরুণরাই আগামী দিনের উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কাণ্ডারি। ডিজিটাল যুগের সুযোগ-সুবিধাকে ইতিবাচক কাজে না লাগিয়ে যুবসমাজ যদি সাইবার অপরাধ কিংবা মাদকের প্রলোভনে পথ হারায়, তাহলে জাতির উন্নয়ন থমকে দাঁড়াবে।”
সিলেটের গোলাপগঞ্জে সাইবার অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে আয়োজিত সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুর ১২টায় ঐতিহ্যবাহী গোলাপগঞ্জ সরকারি এমসি একাডেমি মিলনায়তনে এ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রযুক্তির অপব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধ এবং মাদকের ভয়াল বিস্তার থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষায় আয়োজিত সভায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, তরুণ প্রজন্মই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিজ্ঞানকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে। তবে প্রযুক্তির অপব্যবহার ও মাদকের ভয়াবহতা তরুণদের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
তিনি বলেন, তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রযুক্তির সুফল কাজে লাগিয়ে তরুণ প্রজন্মকে দেশ গঠনের কাজে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশেষ বক্তার বক্তব্যে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান সাইবার অপরাধের আধুনিক ধরন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, অনলাইন প্রতারণা, সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলিংসহ বিভিন্ন অপরাধের ভয়াবহতা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “ভার্চ্যুয়াল জগত এখন আমাদের বাস্তব জীবনেরই অংশ। না বুঝে কিংবা আবেগের বশে ইন্টারনেটে করা একটি ভুল একটি সম্ভাবনাময় জীবনকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে।” অপরাধের জালে পা দেওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোলাপগঞ্জ সরকারি এমসি একাডেমির অধ্যক্ষ ভানুজ কান্তি ভট্টাচার্য।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতার বার্তা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সভায় সাইবার বুলিং, অনলাইন প্রতারণা, ব্ল্যাকমেইলিং এবং মাদকের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। তথ্যচিত্রের মাধ্যমে এসব অপরাধের বাস্তবচিত্র তুলে ধরা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও সচেতনতা তৈরি হয়।
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তিকে ভয় নয়, বরং নিরাপদ ও ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক এবং গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা মনে করেন, শুধু একটি সচেতনতামূলক সভার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যায়ে নিয়মিত সাইবার নিরাপত্তা ও মাদকবিরোধী প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধের মাধ্যমেই তরুণ প্রজন্মকে সাইবার অপরাধ ও মাদকের অন্ধকার থেকে দূরে রাখা সম্ভব।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গোলাপগঞ্জের এই সচেতনতামূলক উদ্যোগের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে ঘরে ঘরে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে উঠবে সাইবার অপরাধ ও মাদকমুক্ত নিরাপদ গোলাপগঞ্জ।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




