মাধবপুরে এক বছর ধরে বন্ধ স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ
শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৩৯ PM

জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকটে ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

মাধবপুরে এক বছর ধরে বন্ধ স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ

জালাল উদ্দিন লস্কর ,মাধবপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১/০৮/২০২৬ ০৩:৫৩:১৬ PM

মাধবপুরে এক বছর ধরে বন্ধ স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ

ছবি:সংগৃহীত


হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে। সার্জন না থাকায় পুরুষদের ভ্যাসেকটমি ও নারীদের লাইগেশন করা হচ্ছে না। একই সঙ্গে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহেও দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। ফলে পরিবার পরিকল্পনা সেবা নিতে এসে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আগে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তির আওতায় মেরি স্টোপস ক্লিনিক থেকে সিলেটের একজন সার্জন মাধবপুরে এসে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। কিন্তু প্রায় এক বছর ধরে মেরি স্টোপসের কোনো সার্জন মাধবপুরে আসছেন না। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর নবায়ন করা হয়নি। ফলে বন্ধ রয়েছে ভ্যাসেকটমি ও লাইগেশন কার্যক্রম।

শুধু স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ নয়, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহও প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ইমপ্ল্যান্ট, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ও কনডমের সরবরাহ নেই বললেই চলে। এতে নিম্নআয়ের ও দরিদ্র পরিবারের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. সুজন সাহা বলেন, ‘লোকজন সেবা নিতে এসে সেবা না পেয়ে ফিরে যায়। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ নেই বললেই চলে।’

তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে তিন বছর মেয়াদি ইমপ্ল্যান্ট গ্রহণ করা অনেক নারীর নির্ধারিত মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তারা ইমপ্ল্যান্ট অপসারণের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন। কিন্তু ইমপ্ল্যান্ট অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জামও পর্যাপ্ত নেই।

ডা. সুজন সাহা বলেন, প্রতি মাসে ক্যাম্প করে মেয়াদোত্তীর্ণ ইমপ্ল্যান্ট অপসারণ করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতে তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। বর্তমানে পাঁচ শতাধিক নারী ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করছেন বলেও জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে ইউনিয়ন পর্যায়ের পাঁচটি পরিবার কল্যাণকেন্দ্রের কার্যক্রমও অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কেন্দ্রে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীরা থাকলেও প্রয়োজনীয় সেবা ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট থাকায় সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নিয়মিত জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী সরবরাহ এবং স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সেবা নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন এসব সেবা ব্যাহত হওয়ায় বিশেষ করে দুর্গম ও নিম্নআয়ের এলাকার মানুষের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ডা. সুজন সাহার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সংকট শুধু মাধবপুরের নয়; দেশের বিভিন্ন স্থানেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তবে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান জানান, কিছুদিনের মধ্যেই এ অবস্থার অবসান ঘটবে।

দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম বন্ধ থাকা, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের পরিবার কল্যাণকেন্দ্রগুলোর সেবা কার্যক্রমে স্থবিরতার দ্রুত অবসান ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

মাধবপুরে এনজিও কর্মকর্তার বি*রুদ্ধে কোটি টাকা আ*ত্মসাতের অ*ভিযোগ
মাধবপুরে এক বছর ধরে বন্ধ স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ
সালমান শাহ হ*ত্যা: ডিপজল-ডলি জহুর-শিবা শানুকে নিয়ে মুখ খুললেন নীলা চৌধুরী
মাধবপুরে ৪০ লাখ টাকার জমি দখ'লের অ'ভিযোগ
সিলেটে হা'মের উপসর্গে আরও একজনের মৃ'ত্যু
সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হতে পারে ভারী বর্ষণ
প্রেম, সম্পত্তির পর এবার চু*রির মোটিভ:হ*ত্যাকা*ণ্ডের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো প্রশ্ন
গ্রিন-ক্লিন সিলেট গড়তে জলাশয় পুনরুদ্ধারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে: সিসিক প্রশাসক
নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের শপথ শুক্রবার
চুনারুঘাটে বিএনপির ৬২ নেতাকর্মীর বি'রুদ্ধে মা'মলা