দেড় মাসের ছুটি নিয়ে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুনামগঞ্জের আমিন উদ্দিন (৪৭)। জেদ্দা বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে সৌদি আরবের রিয়াদ-তায়েফ সড়কের আল-কোমরা এলাকায় সড়ক দু'র্ঘটনায় প্রা'ণ হারিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় গাড়িতে থাকা আরও তিনজন নি'হত হয়েছেন।
নি'হত আমিন উদ্দিন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের বর্মাউত্তর গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি প্রায় ২৭ বছর ধরে সৌদি আরবে ছিলেন। তায়েফ এলাকায় তার একটি কফির দোকান ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে আমিন উদ্দিন তার ছোট ভাই মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে বিমানের টিকিটের ছবি পাঠান। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে নিয়ে আসতে বলেন। দীর্ঘদিন পর আমিন দেশে ফিরছেন—এ খবরে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই আসে তার মৃত্যুর খবর। সৌদি আরবে থাকা আরেক ভাই কলিম উদ্দিন ফোন করে পরিবারকে জানান, সড়ক দু'র্ঘটনায় আমিন উদ্দিন মা'রা গেছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তায়েফ থেকে জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশে আমিন উদ্দিনসহ চারজন একটি গাড়িতে রওনা হন। গাড়ির মূল চালকের ভাতিজাও দেশে আসার জন্য তাদের সঙ্গে ছিলেন। পথে আল-কোমরা এলাকায় গাড়িটি দু'র্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে আমিন উদ্দিন, গাড়ির মূল চালকসহ চারজন নি'হত হন। দু'র্ঘটনার পর চালকের ভাতিজা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নি'হতের ভাই সৌদি প্রবাসী মাওলানা আব্দুল আওয়াল ও মাওলানা কলিম উদ্দিন তায়েফের এরজোয়ান থানায় পলাতক চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।
আমিন উদ্দিনের ছোট ভাই মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আমার ভাই আমাকে ফোন করে মঙ্গলবার সকালে সিলেট বিমানবন্দর থেকে তাকে নিয়ে আসতে বলেছিল। এ খবরে আমাদের পরিবারের সবাই আনন্দিত ছিলাম। তাকে দেশে নিয়ে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই সৌদি প্রবাসী আরেক ভাই কলিম উদ্দিন জানান, আমাদের ভাই স'ড়ক দুর্ঘটনায় মা'রা গেছেন।’
জসিম উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমার বড় ভাইয়ের তিনটি সন্তান। তাদের আমরা এখন কী জবাব দেব? আমরা আমাদের ভাইকে হারিয়েছি। এখন আমাদের একটাই দাবি, তার ম'রদেহ যেন দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা চাই।’
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আমিন উদ্দিন সর্বশেষ গত বছরের ৩ আগস্ট দেশে এসেছিলেন। এবার দেড় মাসের ছুটি নিয়ে দেশে আসছিলেন। আগামী ২৩ নভেম্বর তার সৌদি আরবে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী সিলেট থেকে জেদ্দার ফিরতি বিমান টিকিটও সংগ্রহ করেছিলেন। তবে দেশে ফেরার বদলে তার ম'রদেহ বর্তমানে সৌদি আরবের তায়েফ আল-মরুয়া এলাকার একটি হাসপাতালের ম'র্গে রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘সড়ক দু'র্ঘটনায় নি'হত আমিন উদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার ম'রদেহ দেশে আনার বিষয়ে আমাদের কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা তাদের সহযোগিতা করব। বিষয়টি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) স্যারকে জানিয়েছি। তার পরিবারের লোকজন আসবেন বলে জানিয়েছেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জৈন্তাবার্তা/আরআর




