ছবি:সংগৃহীত
২০২২ সালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ দলটির কর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (১৪ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ (৭৮) মৌলভীবাজার-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি। এদিন কারাগার থেকে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে পল্টন মডেল থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু সালেহ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আবেদনের পক্ষে যুক্তি দেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় মহাসমাবেশ উপলক্ষে কলাবাগান এলাকায় প্রচার-প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে দলটির কর্মী মুশফিকুর রহমান আবিরকে আসামিরা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান। পরে তাঁকে একটি ট্যানারির গোডাউনে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই দিন নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ চলাকালে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এজাহারে আসামি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে টিয়ারশেল নিক্ষেপ এবং শত শত রাউন্ড গুলি ছোড়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে বিএনপির বহু নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে মুশফিকুর রহমান আবিরও ছিলেন। এ ঘটনায় আবির নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৯৮ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়। সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদ এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




