ছবি:সংগৃহীত
শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদযাপন নিশ্চিত করতে সিলেটে জোরদার করা হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা। পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকায় নজরদারি, পুলিশি টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্য মোতায়েনসহ নানা প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। একই সঙ্গে পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সিলেট মহানগরে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। এ ব্যবস্থার আওতায় সাদা পোশাকে পুলিশ মোতায়েন, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ক্রাইসিস রেসপন্স টিমের (সিআরটি) তৎপরতা জোরদার করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পূজামণ্ডপ ও আশপাশের এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসএমপি সূত্রে জানা গেছে, মহানগরে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করবেন দুই শতাধিক ট্রাফিক পুলিশ সদস্য। পূজামণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং দর্শনার্থীদের ভিড় সামাল দেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. আফজাল হোসেন জানান, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি বলেন, ১০৮টি সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। যেসব ক্যামেরা নষ্ট রয়েছে, সেগুলো পূজার আগেই সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপ কর্তৃপক্ষ নিজস্ব উদ্যোগেও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে পারবে। পাশাপাশি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যদেরও দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সদর উপজেলায় ১৩০ মণ্ডপে ৮৩৪ আনসার সদস্য
নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে সিলেট সদর উপজেলার ১৩০টি পূজামণ্ডপে ৮৩৪ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় মিরাবাজারে সিলেট সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে সদস্যদের মোতায়েন উপলক্ষে ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
ব্রিফিংয়ে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাকির হোসেন সদস্যদের সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন। কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা কার্যকলাপ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করার পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানাতে এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা গ্রুপে ঘটনার তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে আনসার বাহিনীর সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সিলেট জেলা কমান্ড্যান্টের গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাও সদস্যদের জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক তাপস সিং এবং উপজেলা প্রশিক্ষিকা ফরিদা আক্তার।
এদিকে, সিলেট জেলা ও মহানগর মিলিয়ে প্রায় চার হাজার আনসার সদস্য মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জেলা ও মহানগরে ৬৩৯ মণ্ডপে পূজার আয়োজন
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলায় এবার ৪৭৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৪৮টি সার্বজনীন এবং ২৬টি পারিবারিক পূজামণ্ডপ। অন্যদিকে, সিলেট মহানগরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে ১৬৫টি মণ্ডপে।
বিপুলসংখ্যক পূজামণ্ডপে উৎসব আয়োজনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার পাশাপাশি জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সিসিকের প্রস্তুতি
পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতি নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন। পূজার দিনগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন নাগরিক সেবা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপের পরিচ্ছন্নতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূজার পাঁচ দিন নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নগদ অর্থসহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ করা হচ্ছে। মন্দিরে মন্দিরে গিয়ে পূজার প্রস্তুতি সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের আশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা, আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালন, পূজা উদ্যাপন কমিটির সহযোগিতা এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার সমন্বিত উদ্যোগে সিলেটে শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




