সমালোচনার পথ বন্ধ করবেন না, একদিন আমাদের কাছেই আসতে হবে’
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে মতিউর রহমান চৌধুরী

সমালোচনার পথ বন্ধ করবেন না, একদিন আমাদের কাছেই আসতে হবে’

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮/১০/২০২৬ ০৪:১৭:২৬ অপরাহ্ন

সমালোচনার পথ বন্ধ করবেন না, একদিন আমাদের কাছেই আসতে হবে’

সংগৃহীত


ক্ষমতায় থাকাকালে সরকার সমালোচনা বন্ধ করতে আইন করতে চায়, অথচ ক্ষমতা হারানোর পর সেই আইনেই অন্যায়ের শিকার হতে হয় বলে মন্তব্য করেছেন সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার্স ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।

সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দয়া করে আমাদের হাতটা আবার বাঁধবেন না। হাত বেঁধে দিলে আপনার ক্ষতি হবে। আপনার জন্য কিন্তু আমি আর লিখতে পারব না। আপনাকে একদিন আমাদের কাছে আবার আসতে হবে।’

রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) কার্যালয়ে প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন নিয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। টিআইবি, ব্র্যাক, ব্লাস্ট, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ ১৯টি সংগঠন যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।

মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে কোনো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী নয়। তাই ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় রেখেই আইন প্রণয়ন করা উচিত। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আইনের প্রয়োজন রয়েছে, তবে সরকারের সমালোচনা ও সাইবার অপরাধকে কোনোভাবেই এক করে দেখা উচিত নয়।

তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে সরকারের সমালোচনা হবেই। সমালোচনা করার অধিকার এবং সাইবার অপরাধের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করতে হবে। এ দুটিকে আলাদা করা না গেলে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবিত আইনে কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায়ে সংবাদপত্র বা অনলাইন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ রাখা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নোয়াব সভাপতি। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতার ফোনের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করার পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।

প্রস্তাবিত আইনে ‘ভুল তথ্যের’ সংজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, কোনো সংবাদ কারও পছন্দ না হলেই সেটিকে ভুল তথ্য হিসেবে চিহ্নিত করা কিংবা কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হতে পারে। কোন তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল হিসেবে প্রচার করা হয়েছে, তা নির্ধারণের দায়িত্ব কার—আইনে সে বিষয়ে স্পষ্টতা থাকা প্রয়োজন।

সাংবাদিকদের বিচারের ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাবেরও বিরোধিতা করেন মতিউর রহমান চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘ভেজাল ওষুধ যাঁরা তৈরি করেন, তাঁদের ধরার জন্য যে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে ব্যবহার করা হয়—সেই আদালতের কাছে আপনি সাংবাদিকের বিচারের ক্ষমতা দিচ্ছেন! এইটা কী করে একটা গণতান্ত্রিক সমাজে চিন্তা করা যেতে পারে?’

প্রস্তাবিত আইন নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় আলোচনা আয়োজন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মতামত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে আইন প্রণয়নের জন্য গঠিত কমিটিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

গোলটেবিল বৈঠকটি পরিচালনা করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। এতে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলম, টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের বাংলাদেশ প্রধান ফৌজিয়া আফরোজসহ অন্যরা।

জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: