সংগৃহিত
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বসির ও সিথি আক্তার স্বামী-স্ত্রী ছিলেন না। তাঁরা ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন—এমন তথ্যও সঠিক নয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে তাঁদের দুজনকেই প্রবাসী কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পাওয়ার পর নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম আবদুল বসির ২০২২ সালের নভেম্বরে সৌদি আরবে যান। পবিত্র মক্কা নগরীর হারাম শরিফে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সৌদি আরবে যাওয়ার আট মাসের মাথায় দেশটির পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি সৌদি আরবের কারাগারে ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নজরুল গ্রেপ্তার হওয়ার প্রায় এক মাস পর তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ ছিল সীমিত। মাঝেমধ্যে বাবা-মায়ের সঙ্গে কয়েক মিনিট কথা বলার সুযোগ পেতেন তিনি।
নজরুলের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর বাবা-মায়ের সঙ্গে তাঁর সর্বশেষ কথা হয়। সেদিন দুই থেকে আড়াই মিনিট কথা বলেছিলেন তিনি। এরপর গত বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সৌদি আরব থেকে এক ব্যক্তি ফোন করে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পরিবারকে জানান।
পরিবারের সদস্যদের কাছে এই খবর ছিল আকস্মিক ও মর্মান্তিক। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা ছেলের সঙ্গে শেষবার কথা বলার পর আর কোনো যোগাযোগ না হওয়ায় তাঁরা উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন।
এদিকে সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মক্কা অঞ্চলের একটি মসজিদে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ড’ এবং মসজিদের পবিত্রতা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। গত ১৪ অক্টোবর এ দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।
তবে দুই বাংলাদেশির গ্রেপ্তার, বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ আগে থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা, সংশ্লিষ্ট অভিযোগ, বিচারপ্রক্রিয়া ও অন্যান্য পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে কূটনৈতিকভাবে তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




