গোয়াইনঘাটে জমি জ/বরদখল ও পরিবারকে একঘরে করার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে প্রতিকার দাবি
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

গোয়াইনঘাটে জমি জ/বরদখল ও পরিবারকে একঘরে করার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে প্রতিকার দাবি

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৯/১০/২০২৬ ০৫:৪৯:৫৫ অপরাহ্ন

গোয়াইনঘাটে জমি জ/বরদখল ও পরিবারকে একঘরে করার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে প্রতিকার দাবি

সংগৃহিত


সিলেটের গোয়াইনঘাটে বসতবাড়ির জমি জবরদখলের চেষ্টা, পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখা, প্রাণনাশের হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এ সময় তাঁরা নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে গোয়াইনঘাট উপজেলা মুক্তমঞ্চে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের বলেশ্বর গ্রামের মৃত মো. বশির উদ্দিনের ছেলে আব্দুস শুকুর।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুস শুকুর অভিযোগ করেন, গ্রামের ইকবাল হোসেন, মাহমুদ আলী, লোকমান উদ্দিন, মুসাই মিয়া, ফরিদ উদ্দিন ও হারুন উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের বসতবাড়ির জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছেন। ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর লোকমান উদ্দিন গং প্রতারণার মাধ্যমে জাল দলিল তৈরি করে বাড়ি দখলের চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় তাঁরা আদালতের শরণাপন্ন হন। পরে গোয়াইনঘাট সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব মামলা (নম্বর ০৪/২৪) এবং সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ আরেকটি মামলা (নম্বর ১২৪) দায়ের করা হয়।

আব্দুস শুকুরের অভিযোগ, আদালতে মামলা করায় প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের পরিবারকে সামাজিকভাবে একঘরে করে রেখেছে। পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহার না করলে হত্যা ও বসতবাড়ি দখলের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ১৭ অক্টোবর একটি ফেসবুক আইডি থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করা হয়। এতে জমি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হলেও কোনো বৈধ কাগজপত্র বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের ভাষ্য, ওই সম্প্রচারে প্রচারিত তথ্য মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও মানহানিকর।

জমির মালিকানা নিয়ে বক্তব্যে আব্দুস শুকুর জানান, বিএস ৬২৩ দাগে পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমিতে তাঁরা প্রায় ১৫ বছর ধরে বসবাস করছেন। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, প্রাপ্য জমির তুলনায় বর্তমানে কম জমি তাঁদের দখলে রয়েছে। অন্যদিকে, ওই দাগের জমির একটি অংশ মুসাই মিয়া ও মাহমুদ আলী গং অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে গাছপালা কেটে ফেলে এবং দুটি ঘর ভেঙে দেয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে বাড়িটি রক্ষা করেন। এ সময় বিবাদীরা জমি জবরদখলের চেষ্টার বিষয়টি স্বীকার করে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে একটি আপসনামা জমা দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তাঁরা। পরবর্তী সময়ে সেনাক্যাম্প প্রত্যাহার করা হলে প্রতিপক্ষের আচরণের কারণে ছাব্বিশ মৌজার স্থানীয় মুরব্বিদের উদ্যোগে সালিশের চেষ্টা ব্যর্থ হয় বলেও জানান আব্দুস শুকুর।

জমি বিক্রির বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আইনি জটিলতার কারণে বিক্রির সময় ১৩ শতক জমির দলিল করে দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তখনই বিকল্প দাগে সমপরিমাণ জমি অথবা উপযুক্ত টাকা ফেরত দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে করা হয়েছিল। ওই অঙ্গীকার অনুযায়ী টাকা পরিশোধে তাঁরা এখনো প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান তিনি।

আব্দুস শুকুর আরও অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে চলমান মামলা নিষ্পত্তি হলে বিএস ৬২৩ দাগের জমির দখল ছাড়তে হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে প্রতিপক্ষ গ্রামের লোকজনকে উসকে দিয়ে তাঁদের পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাঁদের সঙ্গে কেউ কথা বললে জরিমানা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং জোরপূর্বক গবাদিপশু নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

সংবাদ সম্মেলন থেকে আদালতের ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উসকানিমূলক লাইভ সম্প্রচার করার অভিযোগ তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তাঁরা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য সংবাদ সম্মেলনে পাওয়া যায়নি।

জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ