নবীগঞ্জের জোয়ালভাঁঙ্গা হাওরে সোনালী ধানের ঢেউ!
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৯ অপরাহ্ন

নবীগঞ্জের জোয়ালভাঁঙ্গা হাওরে সোনালী ধানের ঢেউ!

এম. মুজিবুর রহমান, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২/১১/২০২৬ ০৬:৫১:৪৬ অপরাহ্ন

নবীগঞ্জের জোয়ালভাঁঙ্গা হাওরে সোনালী ধানের ঢেউ!

সংগৃহীত


অগ্রহায়ণ মাস আসতে এখনো দুইসপ্তাহ বাকি। তার আগেই হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জোয়ালভাঁঙ্গা হাওরে লেগেছে আগাম অগ্রহায়ণের আমেজ।

দিগন্ত জোড়া হাওর জুড়ে এখন শুধু সোনালী ধানের হাসি। বাতাসে দুলছে পাকা ধানের শীষ। কৃষকের চোখে-মুখে ফসল ঘরে তোলার আনন্দ। হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার অন্যতম বৃহৎ জলাভূমি এই জোয়ালভাঁঙ্গা হাওর। প্রায় ৪টি ইউনিয়নের ২৫টি গ্রামের কয়েক হাজার কৃষকের একমাত্র ভরসাস্থল এই হাওর। উপজেলার দীঘলবাক,আউশকান্দি, কুর্শি ও ইনাতগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকরা বছরের পর বছর ধরে এই হাওরেই বোরো ও আমন ধানের আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। সরেজমিনে হাওরে গিয়ে দেখা যায়-পুরো হাওর সোনালী রঙে ছেয়ে গেছে। অনেক জমির ধান পুরোপুরি পেকে গেছে। কৃষকরা কাস্তে হাতে ধান কাটতে শুরু করেছেন। কেউ ধান কাটছেন, কেউ আঁটি বাঁধছেন, কেউ আবার মাথায় করে বা কাঁদে করে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন পাকা ধান। হাওরের মাঝে মাড়াই ও হচ্ছে। জোয়ালভাঁঙ্গা হাওরের তীরবর্তী কারখানা গ্রামের কৃষক আনোয়ার মিয়া বলেন-এবার আবহাওয়া ভালা থাকায় ফলন খুব ভালা হইছে। জোয়ালভাঁঙ্গা হাওরই আমরার সব। এই হাওরের ধান দিয়াই বছর চলে। সোনালী ধান দেখলে মনের কষ্ট দূর হয়ে যায়। বোয়ালজুর গ্রামের কৃষক মোজাহিদ মিয়া বলেন-অগ্রহায়ণ মাস কৃষকের উৎসবের মাস। এবছর ভালো ফলন হয়েছে। তবে ধানের দাম কম। প্রতিমন ধান ৬ শত টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হাওরের  পাশে প্রায় ২৫ গ্রামের মানুষ এখন এই ধানের উপর নির্ভরশীল। ধানের দাম ভালা পাইলে আমরার কষ্ট স্বার্থক হইব।

দীঘলবাক ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম বাবুল বলেন-জোয়ালভাঁঙ্গার হাওর বিশাল বড় একটি হাওর। এটি ৪টি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় এককভাবে ধান উৎপাদনের তথ্য দেয়া সম্ভব হবেনা। তবে সরকারীভাবে কৃষকদের আমনের প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। ফলন ও ভালো হযেছে। নবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আরফিন হাসানকে বারবার ফোন দেয়া হলে। তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একটি নির্ভরযোগ্য সুত্রে জানা গেছে-এবার জোয়ালভাঙ্গা হাওরে প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো সার-বীজ পাওয়ায় ফলন লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি হওয়ার আশা করছেন কৃষকরা। হাওরের পার্শ্বের গ্রামের সাধারণ লোকজন মনে করছেন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগেই যদি কৃষকরা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারেন। তাদের আশার প্রতিফলন হবে। ওই জোয়ালভাঁঙ্গা হাওরের সোনালী ধানের দৃশ্য শুধু কৃষকের নয়, প্রকৃতি প্রেমীদেরও মন কেড়েছে। প্রতিবছর কালের স্বাক্ষী অগ্রহায়ণের এই সোনালী হাওর এখন যেন নবীগঞ্জের সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা