সংগৃহীত
তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের প্রথম সভায় একমত হয়েছেন শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। নতুন কাঠামো অনুযায়ী, আগামী জানুয়ারি থেকে বর্ধিত বেতন পাবেন শ্রমিকরা।আজ বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ন্যূনতম মজুরি বোর্ড কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রথম সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা।এদিন বেলা ১১টায় শুরু হওয়া সভায় নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানসহ বোর্ডের ছয় সদস্য অংশ নেন। বৈঠকে পোশাক শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন, মজুরি বৃদ্ধির দাবি এবং দ্রুত নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।সভা শেষে মজুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আজাদ সুবহানী জানান, আগামী সপ্তাহেই বোর্ডের দ্বিতীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা নিজেদের দাবি ও প্রস্তাব লিখিত আকারে জমা দেবেন। সেসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি কাঠামোর সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি বলেন, আগের মতো মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা করা হবে না। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হবে।মজুরি বোর্ডের শ্রমিক প্রতিনিধি বাবুল আখতার জানান, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের বিষয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষ একমত হয়েছে। সে অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে শ্রমিকরা নতুন কাঠামোয় বেতন পাবেন।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে সরকার ইতোমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে। এ অবস্থায় আন্দোলন অব্যাহত না রেখে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়া উচিত। উৎপাদন সচল রাখা এবং শিল্পের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।এ বিষয়ে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিনও একই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নতুন মজুরি কাঠামো ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হবে এবং আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে শ্রমিকরা নতুন হারে বেতন পাবেন।এদিকে ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীর মিরপুর, গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন করছেন পোশাক শ্রমিকরা। মজুরি বোর্ড গঠনের পরও বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটছে। চলমান আন্দোলনের কারণে বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।এমন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রথম বৈঠকে মজুরি কাঠামো নির্ধারণের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে ঐকমত্য হলেও নতুন ন্যূনতম মজুরির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী বৈঠকে উভয়পক্ষের লিখিত প্রস্তাব পাওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
প্রসঙ্গত, তৈরি পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণে গত ১ নভেম্বর ছয় সদস্যের ‘নিম্নতম মজুরি বোর্ড’ গঠন করে সরকার। সেদিন সকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি বোর্ডের ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। আজ বোর্ডের চেয়ারম্যান জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আজাদ সুবহানীর সভাপতিত্বে বোর্ডের প্রথম সভা হয়।
বোর্ডের বাকি সদস্যরা হলেন- মালিকপক্ষের প্রতিনিধি বিজিএমইএর পরিচালক এ বি এম শামছুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের যুগ্ম মহাসচিব আসিফ আইয়ুব। অন্যদিকে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের (বিজিআইডাব্লিউএফ) সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার।এ ছাড়া বোর্ডে নিরপেক্ষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। এই বোর্ড সব পদে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির সুপারিশ করবে। বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা ও গেজেট হিসেবে প্রকাশ করবে সরকার।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




